Bangladesh News Network

হাইতির প্রেসিডেন্ট অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের হামলায় নিহত

0 4,836

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসি অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জুলাই) দেশটির রাজধানীতে তার বাসভবনে ঢুকে এই হামলা করা হয়েছে।

দেশটির অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লোডে জোসেফ বলেন, দুপুর ১টার দিকে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবন পোর্ট-আউ-প্রিন্সে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ঝড়ের বেগে প্রবেশে করে হামলা করে। এতে প্রেসিডেন্ট নিহত হয়েছেন। ফার্স্ট লেডি মার্টিন মোইসিও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।-খবর বিবিসি ও এএফপির।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জোসেফ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মোইসি। এর আগে তার পূর্বসূরি মিশেল মারটেলি পদত্যাগ করেছিলেন।

বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল তাকে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। প্রায়ই সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

চলতি বছরের শুরুতে রাজধানীতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি ছিলেন নাছোড়বান্দা।

মোইসির ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়েও বিরোধীদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনি বিশারদরা বলে আসছিলেন, তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়েছে।

কিন্তু বছরখানেক আগে একটি ডিক্রি জারি করে তিনি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।

অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী জোসেফ বলেন, বিদেশিদের সহায়তায় একটি কমান্ডো গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডকে বিদ্বেষপূর্ণ, অমানবিক ও বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

জোসেফ বলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের একটি গোষ্ঠী, যাদের অনেকে স্পেনিশ ভাষী, প্রেসিডেন্টের আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে।

এই মুহূর্তে জোসেফ দেশ চালাচ্ছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি দাবি করেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাইতির সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূত ডিডিয়ার লে ব্রিট বলেন, হাইতির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ অবস্থার দিকে যেতে পারে। বুধবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যারিয়াল হেনরির শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, কারা এই হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এটি একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। বর্তমান পরিস্থিতি বড় ধরনের সহিংসতার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় মিয়ামি থেকে ৬৭৫ মাইল দূরে ক্যারেবীয় দরিদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক অস্থিরতা চলছিল। একনায়কতন্ত্র ও সামরিক অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ইতিহাস আছে হাইতির। দেশটিতে গণতন্ত্র কখনোই শিকড় গাড়তে পারেনি।

১১ বছর আগে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর দেশটির পুনর্গঠন হয়নি। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ অবস্থার দিকে গেছে। যদিও হাইতির পুনর্গঠনে কোটি কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা এসেছে।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: