সাইবার হামলার চেষ্টা হচ্ছে দেশের ব্যাংক খাতে

0
73

প্রায় প্রতি মুহুর্তে, সাইবার হামলার চেষ্টা হচ্ছে দেশের ব্যাংক খাতে। এসব হামলায় অর্থ বা তথ্য চুরি হচ্ছে কিনা, তা অজানাই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। যদিও এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে গঠিত সরকারের সংস্থা বিডি সার্ট বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। ভবিষ্যৎ চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর জন্য ফাইন্যান্সিয়াল-সার্ট গঠন করা হচ্ছে বলেও জানায় সংস্থাটি।

সাইবার যুদ্ধের লাইভে এক দেশের হ্যাকার আক্রমণ চালাচ্ছে অন্য দেশে। তাদের লক্ষ্য দুটি, তথ্য এবং অর্থ চুরি। আক্রমণ শুধু অন্য দেশ থেকেই হয় না, অভ্যন্তরীণও হয়। সম্প্রতি সবচেয়ে বড় হামলার শিকার হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

দেশের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আইএসপিগুলোতে প্রচুর আক্রমণকারী ম্যালওয়ারের উপস্থিতি। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে হামলা প্রতিরোধ করতে পারেনি, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা কী? বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য লুকানোর প্রবণতা আছে। ফলে জানা যাচ্ছে না বাস্তব চিত্র।

কম্পিউটারকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে গঠিত সরকারি সংস্থা বিডি সার্ট বলছে, হামলা প্রতিরোধে সাইবার জগতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন তারা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো নিজেরাও নিরাপত্তা জোরদার করছে। ফলে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর আরো বেশ কিছু হামলার চেষ্টা ঠেকানো গেছে।

আর্থিক খাতের হামলা প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা বা ফিন-সার্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে নিজেদের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় করবে ব্যাংকগুলো।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সেবাদানকারী বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থাও সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর আগে, বিশ্বজুড়ে ব্যাংক হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি হবে—এমন সতর্কতা জারি করেছে একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। তারা বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে যুক্ত এই হ্যাকাররা এটিএম বুথ ও ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এ খবর প্রকাশ করেছিলো।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই হ্যাকাররা অত্যন্ত সংগঠিত। তারা সুশৃঙ্খলভাবে সাইবার হামলা চালিয়ে থাকে। ফলে, এদের যত না হ্যাকার মনে হয়, তার চেয়ে বেশি সাইবার গোয়েন্দা মনে হয়। এ রকম সাইবার হামলা চালিয়ে তারা কোটি কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেন, এদের সঙ্গে উত্তর কোরীয় সরকারের যোগসাজশ আছে।