শরীয়তপুরে রাতের আঁধারে গরিব অসহায় মানুষদের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী

0
128

যে কোনো দুর্যোগে এ দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বলা হয়ে থাকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের শেষ আশ্রয়। জনগণের এমন আস্থার প্রতিদানও দিয়ে আসছেন তারা। কেবল দায়িত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ভালোবাসায় জয় করে নিয়েছে সবার মন। এবারের করোনা মহামারীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব অসহায় মানুষ। আর তাদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে খেটে খাওয়া অসহায় কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের আঁধারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

খাদ্য সহায়তার তালিকার আওতায় যারা এখনো আসেনি বা কোনোরকম সহযোগিতা না পেয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর।

সেনাবাহিনীর এ খাদ্য সহায়তার মধ্যে প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি তেল। এতে সাবানও রয়েছে।

ইতোমধ্যে অসহায়দের প্রতি সেনাবাহিনীর কর্তব্যপরায়ণ এই কাজ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। জেলার নড়িয়া, গোসাইরহাট, ভেদেরগঞ্জ ও ডামুড্যায় উপজেলায় ২৫টি, জাজিরা ১৫০, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৫০ পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।

অনেকটা লোকচক্ষুর অগোচরে রবিবার রাতেও খাদ্যসহায়তা পৌঁছে গেছে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব অসহায়দের ঘরে।

নড়িয়া উপজেলা ভোজেশ্বর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, অনেকদিন হলো ঘর থেকে বের হতে পারি না। ঘরে তেমন কোনো খাবারও ছিল না। খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এই পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা করেননি। রাতের আঁধারে সেনা সদস্যরা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়ে গেছে। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।

সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি এটা কোনো সাহায্য নয়, এটা তাদের প্রাপ্য। আমরা নিজেদের মতো করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে যারা প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য এ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিয়ত আমরা মাঠে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘যারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত এরা আসলে সবচেয়ে বেশি অসহায়। তারা বলতেও পারছে না, চলতেও পারছে না। আবার কিছু আছে একেবারেই অসহায় যাদের কাছে এখনো কোনো খাদ্য সহায়তা পৌঁছেনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদেরই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি আমরা।’