Bangladesh News Network

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ পুরো বাংলাদেশের সম্মান

0 4,956

১৯ বছর পর আবারও কান উৎসবে সুনাম পেল বাংলাদেশ। কানের ৭৪তম আসরে আঁ সার্তে রিগা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। বুধবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে ডবসি থিয়েটারে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীর পর যা হলো তা ইতিহাস।

‘মাটির ময়না’ সিনেমার পর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। বিশ্ব মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা দুই বাংলাদেশি সিনেমা। ২০০২ সালে ৫৫তম কান উৎসবে প্যারালাল বিভাগের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে নির্বাচিত হয়েছিল তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’। প্রদর্শনীর পর প্রশংসা এবং পুরস্কার দুই পেয়েছিল ‘মাটির ময়না’।

প্রায় এক মিনিট ধরে হাততালি, স্ট্যান্ডিং ওভেশন, বাঁধনের আনন্দ অশ্রু, সাদের স্যালুট। সবই সে ইতিহাসের অংশ। প্রদর্শনীর দিন ডবসি হল ছিল দর্শকপূর্ণ। ‘রেহানা মরিয়ম ‍নূর’ এবারের আসরের আঁ সার্তে রিগা বিভাগের প্রথম সিনেমা। এটি নির্মাণ করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। প্রদর্শনীর পর দর্শকদের এতো ভালোবাসাই বলে দেয় ‘টিম সাদ’র পরিশ্রম সার্থক।

এ সম্মানকে পুরো বাংলাদেশের বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এ সম্মান শুধু ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর সঙ্গে জড়িতদের একার সম্মান নয়। এটা পুরো বাংলাদেশের সম্মান। এ কৃতিত্ব আমার পরিচালকের, আমার টিমের। সবার কষ্টের ফল আজকে এখানে এসে পৌঁছেছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ব্যাপ্তির সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সাবেরী আলম, আফিয়া জাহিন জায়মা, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ, কাজী সামি হাসান, ইয়াছির আল হক, জোপারি লুই, ফারজানা বীথি, জাহেদ চৌধুরী মিঠু প্রমুখ।

প্রিমিয়ারে দর্শক সারিতে পাশাপাশি বসেছেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া, চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জ্বল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু।

বাংলা সিনেমা সীমানা পার করেছিল অনেক আগেই। সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে বাংলায় অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার এসেছে। তার নির্মিত বেশ কয়েকটি সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছাড়া বিমল রায়, মৃণাল সেন, নন্দিতা দাশের ভূমিকা অনেক। ঋত্বিক ঘটক তো বাংলাদেশ, বাংলা সিনেমা নিয়েই ভাবতেন। সিনেমার পর্দায় তিনি অভিন্ন বাংলাকে তুলে ধরা চেষ্টা করেছেন। দেশ ভাগের প্রভাব নিয়েও সিনেমা বানিয়েছেন।

যে সিনেমা নিয়ে, যে দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন ঋত্বিক ঘটক, সে দেশের সিনেমা আজ বিশ্ব মঞ্চে। বেঁচে থাকলে সত্যি অনেক খুশি হতেন ঋত্বিক ঘটক। বিশ্ব বাজারে বাংলা সিনেমার যাত্রা অব্যাহত থাকুক। বিশ্ব মঞ্চে আবারও প্রতিনিধিত্ব করুক বাংলাদেশ। সে প্রত্যাশা বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: