Bangladesh News Network

রাজস্ব আদায়ে করোনার মধ্যেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে

0 3,696

করোনার মধ্যেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের হিসাবে, আয় হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। চূড়ান্ত হিসাবে যা আরো বাড়তে পারে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছিল তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে যা কমিয়ে তিন লাখ কোটি টাকা করা হয়। এনবিআরের সাময়িক হিসাব বলছে, আয় হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এতে, ঘাটতি প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

আয়কর, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এবং আমদানি শুল্ক-এই তিন উৎস থেকে রাজস্ব আহরণ করে সরকার।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ভ্যাট থেকে আয় ৯৪ হাজার, আয়কর থেকে ৮৫ হাজার ও আমদানি শুল্ক থেকে ৭৭ হাজার কোটি টাকা।

আপাত দৃষ্টিতে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি দেখা গেলেও, প্রবৃদ্ধির হিসাবে নিজেদের সফল দাবি করছে এনবিআর। এবিষয়ে চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কর্মকর্তারা উজ্জীবিত থাকায় করোনার মধ্যেও বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। করোনার প্রভাবে অর্থনীতির অচলাবস্থা ও নানা ধরনের করছাড়ে যা আদায় কঠিন হবে বলছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, করছাড় সত্বেও আয় বাড়লে ভবিষ্যতে আরো ছাড় দেয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করফাঁকি দেয়ার জন্যই একদল ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের নষ্ট করেন। তারাই আবার হয়রানির অভিযোগ তোলেন। কোনো কর্মকর্তা হয়রানি করলে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

অর্থনীতির সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে রাজস্ব আয়ের একটি সম্পর্ক আছে। অর্থনীতির আকার যত বাড়ে, অর্থাৎ যত বেশি জিডিপিরি প্রবৃদ্ধি হবে, তত বেশি রাজস্ব আয় হওয়ার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশে অর্থনীতির সঙ্গে রাজস্ব আয়ের কোনো সামাঞ্জস্য নেই। অর্থনীতির বড় একটি অংশ হিসাবের বাইরে থাকায় (আন্ডারগ্রাউন্ড ইকোনমি) প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হয়। যে কারণে দেশে রাজস্ব ও জিডিপির ব্যবধান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: