Bangladesh News Network

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট

অক্সিজেন সংকটে অপারেশন বাতিল হচ্ছে

0 818

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহের চাহিদা বাড়ায় অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে নির্ধারিত অপারেশনগুলো পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি জরুরি অপারেশনও বাতিল হচ্ছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরল জবাব, সংকট মারাত্মক নয়। অপারেশন হচ্ছে নিয়মিতই।

রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রোগীদের চাপ বেড়েছে ওই এলাকার একমাত্র টারশিয়ারি হাসপাতাল রাজশাহী মেডিকেলে। টারশিয়ারি হাসপাতাল হচ্ছে হাসপাতালের এক ধরন যেখানে বিশেষ সেবা পাওয়া যায়। আর এ কারণেই সুচিকিৎসার জন্য সবাই ছুটছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর এ কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, শুধু তারাই হাসপাতালে আসছেন। ফলে শতভাগ রোগীকেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। সেন্ট্রাল লাইনে অক্সিজেন সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বিরামহীনভাবে। পর্যাপ্ত সিলিন্ডার ও ট্যাংকার মজুত রাখা থাকলেও রোগী বাড়তে থাকায় মাঝে মধ্যে সংকট তৈরি হচ্ছে। মূল সরবরাহ লাইনেও চাপ বাড়ছে। যার ফলে ওপারেশন থিয়েটারের সরবরাহ লাইনে অক্সিজেনের প্রেশার কমে গেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক ইন্ডিপেনডেন্টকে জোরালোভাবে জানিয়েছেন, অক্সিজেনের অভাবে তারা অপারেশন করতে পারছেন না। অনেক জরুরি অপারেশন তারা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে রোগীরা চলে যাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। এতে করে চিকিৎসা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। সহায়-সম্বল হারাচ্ছেন গরিব রোগীরা।

এই হুইসেল ব্লোয়ারের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের একজন সিনিয়র অবেদনবিদের (অ্যানেসথেসিস্ট) সাথে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই চিকিৎসক সংকটের ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘অ্যানেসথেসিয়া মেশিন সচল করার জন্য অক্সিজেনের প্রেশার প্রয়োজন ৪ বার। ১ বার হচ্ছে ১০০ কিলো প্যাসকেল। অর্থাৎ ৪ বার মানে হলো ৪০০ কিলো প্যাসকেল প্রেশার। কিন্তু তারা পাচ্ছেন ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭৫ বার। এতে মেশিন সচল হচ্ছে না। ফলে অপারেশনও করা যাচ্ছে না।’

তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সংকট অস্বীকার করেছেন। করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ার কারণে অপারেশন বিঘ্নিত হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী ইন্ডিপেনডেন্টকে টেলিফোনে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত করোনা ইউনিটে শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে অক্সিজেনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু এতে যে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ আছে তা নয়। তবে মাঝে মাঝে সমস্যা কিছুটা তো হতেই পারে।’

শামীম ইয়াজদানী আরো জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী রয়েছে করোনা ইউনিটে। প্রতিনিয়ত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেও তারা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সোমবার (২১ জুন) নতুন করে ৪৮টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এতে মোট শয্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৭। তবে সোমবার পর্যন্ত রোগী ভর্তি রয়েছে ৪০২ জন।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: