যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে ধস: দাম শূণ্যের নিচে

0
105

মহামারির কারণে চাহিদা কমায় তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রুড ওয়েল বা অপোরিশোধিত তেলের দাম শুন্যের নীচে চলে গেছে অর্থাৎ নেতিবাচক সূচকে চলে গেছে।

তেলের দাম শূন্যের নিচে নেমে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তেল বিক্রেতারা ক্রেতাকে তেলের পাশাপাশি কিছু ডলারও দিয়ে দিতে বাধ্য হবেন কারণ, তাদের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং আর কয়েকদিনের মধ্যে উৎপাদিত তেল রাখার আর কোনো জায়গা থাকবে না। আগের তুলনায় মানুষ ভ্রমন সীমিত করায় তেলের চাহিদা কমে গেছে এবং তেল মজুতকেন্দ্রগুলোও পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

সোমবার আমেরিকার বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অর্থাৎ মাইনাস ৩৭.৬৩ ডলারে নেমে যায়। টেক্সাস ক্রুড ওয়েল মে মাসের জন্য যে আগাম চুক্তি করেছিল, তা ১০০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ডাও জনন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল ৫৯২ পয়েন্ট নীচে নেমেছে – এটি হচ্ছে শতকরা ২ ভাগ হ্রাস। এস এন্ড পি ফাইভ হান্ড্রেডও, শতকরা ২ ভাগ নীচে নেমেছে। এবং নাসডাক ১% হ্রাস পেয়েছে। ‘ন্যাশনাল এভারেজ গ্যাস প্রাইজেস’ এর তথ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে দেখা গেছে যানবাহনের সাধারন গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে গড়ে $ ১.৮১ ডলার।

বিশ্ব বাজারে তেল বেচা-কেনার জটিল প্রক্রিয়ার কারণে তেলের মূল্যের এই অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণত এক মাস পরের তেলের দাম বর্তমানে নির্ধারিত হয়। এর আগে মে মাসে বিক্রির জন্য তেল কেনা-বেচার যে চুক্তি হয়েছিল আজ (মঙ্গলবার) তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ, বিক্রেতারা মে মাসে অর্থাৎ এখন থেকে দুই সপ্তাহ পরে যে তেল বিক্রি করবেন তা যদি এখনই সংরক্ষণাগারে রাখতে চান তাহলে তাদেরকে তেল সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এই কারণে তারা তেলের দাম শূন্যের নিচে নামিয়ে দিয়ে তেল সংরক্ষণাগারের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছেন।

অবশ্য ইউরোপের বাজারে তেলের দাম সোমবার শূন্যের উপরে ছিল। ওই বাজারে মাত্র ৯ শতাংশ কমে গিয়ে জুন মাসে হস্তান্তরের জন্য তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের বাজারে নর্থ সি ব্রেন্ট তেলের দামকে সাধারণত আমেরিকা ছাড়া অবশিষ্ট বিশ্বের তেলের দামের মাণদণ্ড ধরা হয়।

ওদিকে বিশ্ব তেল বাজারের এরকম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে আলোচনা শুরু হয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে। গত ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনা জল্পনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উৎপাদক মিত্রদেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের এই জোট, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ। কিন্তু তারপরও তেলের দরপতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। সূত্র: বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা।