মোংলায় লবন সহনশীল বোরো ধানের পরীক্ষামুলক চাষাবাদে সফলতা অর্জন

0
125

আহসান হাবিব হাসান. মোংলা॥

সুন্দরবন উপকুলীয় অঞ্চল মোংলায় প্রথমবারের মতো লবন সহনশীল বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের পরীক্ষামুলক চাষাবাদে সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

লবনাক্ত এ অঞ্চলের অনাবাদি জমিতে এ বছর ছয় প্রজাতির ধানের ফলন খাদ্য নিরাপত্তায় আশাবাদী করে তুলছে কৃষকদের। বৃহস্পতিবার মোংলার কুমারখালী এলাকায় আনুষ্ঠানিক ভাবে লবন সহনশীল এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।

মোংলা উপজেলার বুডিরডাঙ্গা, মিঠাখালী ও পৌর এলাকার পতিত ৫ হেক্টর জমিতে হিরা হাই ব্রিড-২, বিনা ধান-১০, ব্রি ধান-৮৭/৬৭, ব্রি হাই ব্রিড-৩/৫ ধানের আবাদ ও বাস্তবায়নের উদ্যেগ নেয় স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। রবি মৌসুমে এ জাতের ধানের বীজ বপন করার পর ১৩০ দিনের মধ্যে মাঠ থেকে ধান উঠানো সম্ভব।

এ অঞ্চলে ধানের জাত অনুসানে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ থেকে সাড়ে ৬ মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন হয়েছে। মোংলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা জানান, গাজীপুর ধানগবেষনা ইনষ্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.প্রিয় লাল বিশ্বাসের সহযোগিতায় মোংলার ব্রি হাইব্রিড ধান-৩ ও ৫ জাতের আবাদ হয় এ বছর। এ জাত দুটি ২০০৯ ও ২০১৬ সালে উদ্ভাবন করা হয়। ওই গবেষনা কেন্দ্রের সহায়তায় প্রথমবারের মতো এ বছরই লবনাক্ত অঞ্চল মোংলায় এ ধানের চাষাবাদ ও সফলতা অর্জিত হয়।

তিনি বলেন, এ জাতের ধানের উৎপাদনে কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ সহ সার,বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ সহ নানা পরামর্শ দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, মোংলা উপজেলায় ৮ হাজার ৪শ’৫০ হেক্টর আবাদ যোগ্য জমি রয়েছে। কিন্তু চিংড়ি ঘের ও লবনাক্ততার কারনে এখানে ৩ হাজার ৯শ’হেক্টর জমিতে একমুখী আমন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে।

আগামীতে লবনসহনশীল বোরো ধানের বিভিন্ন জাতের ধানের উৎপাদন এ অঞ্চলের কৃষদের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে উপকুলীয় এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।