মোংলায় নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

0
190

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারনে সমগ্র দেশের মতো বন্দর নগরী মোংলায়ও লকডাউন এর মতো পরিস্হিতী বিরাজ করছে।

বন্দর নগরী মোংলায় ১৪ টি ট্রেড ইউনিয়নে প্রায় ১৭ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। মহামারীর এই দূর্যোগে এই সকল ট্রেড ইউনিয়নের সকল শ্রমিকের নিকট এখনো ত্রান সহায়তা পৌছানো সম্ভব হয়নি। সকল কর্মকান্ড স্হবির হয়ে পড়ায় মোংলার শ্রমিকেরা অত্যন্ত মানবেতর জিবনযাপন করছে।

মোংলা থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নে প্রায় ১২শতাধিক শ্রমিক সদস্য রয়েছে। তারা সবাইই দিনমজুর। কর্ম না থাকায় ও ত্রানের আওতায় এখনো না আসায় একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে তারা।

এ অবস্হায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষিত ত্রান তহবিল হতে শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্টে আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষনা করেন। এই ঘোষনার পরের দিন থেকেই মোংলা থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ দুলাল হাওলাদার ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান ফকির নির্মান শ্রমিকদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল হতে টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে চাঁদাবাজি শুরু করে বলে সাধারন শ্রমিকরা জানায়।

শ্রমিকরা আরো বলেন, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ৪/৫ শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে ত্রান দেওয়ার কথা বলে নগদ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ভোটার আইডি কার্ড ও ইউনিয়নের আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ বিকাশ নম্বর নেয়।

সাধারন সম্পাদক শাহজাহান ফকিরের কাছ থেকে এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শ্রমিকদের ত্রানের ৫ হাজার টাকা করে প্রতিজন শ্রমিককে তাদের একাউন্টে এনে দেওয়া হবে। তার খরচ বাবদ সে আর সভাপতি এ টাকা নিচ্ছেন।

শ্রমিকরা ইতিমধ্যে বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট উপলব্ধি করে সভাপতি দুলাল হাওলাদার ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান ফকিরের নামে মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ও মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি জানিয়ে সঠিক বিচার ও তাদের প্রদত্ত অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করেন।

মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ইতিমধ্যে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে থানায় নিয়ে যান এবং আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সকল শ্রমিকের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এর অন্যথা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে বলে তিনি বলেন।

এছাড়া বিষয়টি মোংলা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদককেও জানানো হয়েছে বলে চাঁদাবাজির শিকার শ্রমিকরা জানান।