মানবিক পুলিশ মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন বিক্রি হওয়া সন্তান

0
215

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেস্কঃ

গাজীপুর মহানগরের এনায়েতপুর এলাকার গার্মেন্টসকর্মী দম্পতী শরিফ-কেয়া। দেড় বছর আগে ভালোবেসে সংসার পাতেন। সামান্য বেতন পেলেও সুখেই ছিলেন তারা। কিন্তু করোনার ভয়াল ছোবলে দুই মাস ধরে কর্মহীন। প্রসব ব্যথা উঠার পর স্ত্রীকে ভর্তি করান স্থানীয় কোনাবাড়ি সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

গত ২২ এপ্রিল তাদের কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় দীর্ঘ ১১ দিন কেয়া খাতুনকে হাসপাতালে কাটাতে হয়। আর এটাই কাল হয় তাদের জীবনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, এই কয়দিনে বিল এসেছে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা!

অভাবের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় অসহায় বাবা-মা ভালোবাসা। কোনভাবেই যখন এত টাকা ব্যবস্থা করতে পারছিল না, তখন অনেকটা বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকা দাম ধরে শিশু সন্তানকে বিক্রি করতে হয় তাদের। যদিও ক্রেতা প্রথম ধাপে তাদের দশ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নেন। গতকাল শুক্রবার (১ মে) খালি বুকে সন্তান ছাড়া নিঃস্ব মা কেয়া বাড়িতে চলে যায়।

নির্মম এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে ওই মহিলার(কেয়া) বাড়িতে ছুটে যান গাজীপুর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন। খোঁজে বের করেন সন্তান কেনা ওই ব্যক্তিকেও। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন। সঙ্গে সন্তানকে লালন-পালনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেন।

স্থানীয় সাদেকা নিট কম্পোজিটে শ্রমিক ও ওই শিশুর বাবা শরিফ কাজী বলেন, করোনার কারণে দুই মাস ধরে কারখানা বন্ধ। বেতন নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। সন্তান আসবে ভেবে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। অভাবের কারণেই তাও শেষ হয়ে যায়। ভেবেছিলাম ধার করে হাসপাতালের চুক্তিকৃত ১৫ হাজার টাকা দিব। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে টাকা ধার চেয়েও পায়নি। তাই সবশেষ স্ত্রীকে ছাড়িয়ে আনতে সন্তান বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলাম। না হয়েও উপায় ছিল না। কারণ হাসপাতালের লোকজন আমাদের চাপ দিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে হাসপাতালের এমডি মো. মোনায়েম খান সময় সংবাদকে বলেন, আমরা কোন চাপ দেইনি। আর আমার হাসপাতালে সন্তান বিক্রি করেনি। বাইরে গিয়ে কী করছে সেটা আমি বলতে পারবো না। এত টাকা বিল হলো কীভাবে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

এদিকে এ খবর জানতে পেরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন নবজাতককে কিনে নেয়া ওই ব্যক্তিকে টাকা ফেরত দেন। পরে নবজাতকে নিয়ে হাজির হন শরীফ হোসেনের বাড়ি। মায়ের কোলে তুলে দেন শিশুটিকে। পাশাপাশি সন্তানকে লালন-পালনের জন্য আরও পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন ওই দম্পতির হাতে।

পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, টাকার জন্য মা তার সন্তান বিক্রি করতে পারে না। বিষয়টি খুবই অমানবিক। ঘটনাটি শুনার পর আমি ঠিক থাকতে পারিনি। সন্তানটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমার খুব ভালো লেগেছে। যতদিন সম্ভব ওই সন্তানের খোঁজ রাখবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে মায়ের কোলে সন্তান ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে পুলিশ কমিশনারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তার প্রশংসা করেন।