মহানুভবতা ও মানবিকতার অনন্য উদাহরন ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী

0
221

মোঃ রিপন চৌধুরী, মোংলা থেকে।।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে ঘর বন্দি মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে খোঁজ নিয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন মোংলা থানার সুযোগ্য অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী।

এ অন্যরকম মহানুভবতা-করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবার প্রকাশ্যে ত্রাণ নিতে পারেন না,তাদেরই বেশি খোঁজ নিচ্ছেন তিনি।

করোনায় সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকা কর্মহীন দুস্থ পরিবারের মাঝেও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা (ত্রাণ) বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। করোনার মহামারির পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মধ্যবিত্ত, দুস্থ, কর্মহীন পরিবারের খোঁজ নিয়ে তাদের খাদ্য সামগ্রী সহায়তা রাতের আধারে বাড়ি বাড়ি গিয়েই পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন তিনি।

টি,এ,ফারুক স্কুল এন্ড কলেজ রোডস্থ এক মধ্যবিত্ত মহিলা জানান,ঘরে চাল না থাকায় আমি লোকলজ্জা কারো কাছে কিছুু চাইতে না পেরে মোংলা থানার ওসি সাহেবকে ফোন দিলে রাতের আধারেই আমার ঘরে খাবার পৌছে দেন তিনি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে ঘরে অবস্থান করার আহবানও জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত অথবা দরিদ্র পরিবার, কিন্তু জনপ্রতিনিধি কিংবা বিত্তবানদের দেয়া সাহায্য প্রকাশ্যে নিতে পারেন না, এই ধরনের পরিবার সমূহ খোঁজ নিয়েই অতি নিরবে তাদের বাড়িতে তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তিনি ওই ধরনের কোন পরিবার এখনো অভূক্ত থেকে থাকলে নির্দ্বিধায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে যেকোন সময় খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার ঘোষনা দেন। একইভাবে নিজ নিজ এলাকায় যারা বিত্তবান আছেন, কিংবা ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন,তাদেরকে সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আহবান জানিয়েছেন । অনেক পরিবার এই মহাসংকটে লোকচক্ষু লজ্জায় সামনাসামনি এসে ত্রাণ নিতে পারছেনা।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, বিশ্বে চলমান মহামারি এই দূর্যোগে সবাই নিজ এলাকার গরীব, অসহায়, কর্মহীন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতি সাহায্যে এগিয়ে আসলে তাদের কষ্ট লাঘব হবে। মানুষ মানুষের জন্য। বিপদের মুহুর্তে কে কার জন্য কি করেছেন, তা সারা জীবন মনে রাখবে।

এছাড়া তিনি জনসাধারণকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকানো যাবে বলেও মন্তব্য করেন। এজন্য সরকারি নিয়মবিধি মেনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা হতে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোন মানুষকে রাস্তায় ঘুরাঘুরি না করার অনুরোধ জানান।