ভয়াবহ সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন পম্পেও

0
73

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) পম্পেও বলেন, আমরা বেশ পরিষ্কারভাবে বলতে পারি সাইবার হামলায় রাশিয়া জড়িত রয়েছে।

মস্কোর জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাশিয়া সাইবার হামলার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান সোলারউইন্ডসের তৈরি সফটওয়ার লক্ষ্য করে চালানো হামলার তথ্য জানা যায় গেল সপ্তাহে। কয়েক মাস ধরে এ হামলা চলে। হামলার টার্গেটে পরামাণু অস্ত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকা একটি প্রতিষ্ঠানও ছিল।

সরকারি সংস্থা মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সংস্থাগুলো আগেই জানতে পারে, তাদের প্রতিষ্ঠানে একইধরনের সফটওয়ারের মাধ্যমে হামলার চেষ্টা চলছে।

গবেষকরা এ হামলার নাম দিয়েছেন সানব্রাস্ট। তারা এটিকে অন্যতম বড় সাইবার হামলা বলে অভিহিত করেছেন। কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলেও জানান তারা।

সাইবার হামলা সম্পর্কে পম্পে কী বলেছেন?

শুক্রবার মার্কিন টক শো উপস্থাপক মার্ক লেভিনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে পম্পেও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন গেল কয়েক মাস ধরে মার্কিন সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি কোম্পানির ওয়েবসাইট হ্যাক করে অনুপ্রবেশ করেছে রাশিয়া।

পম্পেও বলেন, মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ওয়েব সাইট হ্যাক করার জন্য তৃতীয় পক্ষের উল্লেখযোগ্য বেশকিছু সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যার মধ্যে বাণিজ্য, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশীলিত ওই সাইবার হামলার টার্গেট করা হয়।

পম্পেও বলেন, মার্কিন পর্যবেক্ষকরা হামলার অনুসন্ধান করছেন। তারা ইতোমধ্যে এ বিষয়টি উদঘাটন করতে পেরেছেন। তবে অধিকাংশ তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হবে না। রাশিয়া আমাদের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও সত্যিকার অর্থেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি।

সাইবার হামলার বিষয়ে যা জানা গেছে

বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত টেক্সাসভিত্তিক আইটি কোম্পানি সোলারউইন্ডসের সফটওয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা।

তৃতীয় পক্ষের সফটওয়ার ব্যবহার করে সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। সেবা প্রদানকে বাধাগ্রস্ত বা ধ্বংস করা নয়। বরং তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল। টার্গেট ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য তথ্য চুরি করা। তবে তৃতীয় পক্ষের সফটওয়ারটি যখন ডাউনলোড হচ্ছিল, তখন ডাটার প্রয়োজন পড়েনি।

এর আগে সোলারইউন্স জানায়, তাদের ১৮ হাজার থেকে ৩ লাখ গ্রাহক হামলার শিকার হয়েছে। তবে গ্রাহক বা নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির উদ্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে- এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চের আগে থেকে সোলারউইন্ডসকে টার্গেট করে হামলা পরিচালিত হয়ে আসছিল।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি ২০ জানুয়ারি শপথ নিতে যাচ্ছেন, বলেছেন তার প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, ভয়াবহ সাইবার হামলা প্রতিহত করা এবং ব্যর্থ করাই আমাদের প্রথম কাজ। অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে মিত্রদের নিয়ে সাইবার হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হ্যাকাররা মার্কিন গোপন তথ্য চুরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।