ভারতের ৮ হাজার কোটি রুপি জরিমানা

0
69

অন্যায়ভাবে পুরনো লেনদেনের ওপর কর চাপানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ব্রিটিশ কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি। ২৪ হাজার ৫০০ কোটি রুপি দাবির ওই মামলায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতে (আইসিজে) হেরেছে ভারত। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এর আগে একই ধরনের মামলায় ভোডাফোনের বিরুদ্ধে পরাজিত হয় ভারত। সেখানেও গুনতে হয়েছে বড় অঙ্কের ক্ষতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরপর দুটি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে পরাজয় ভারতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। এতে দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহী হবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

পুরাতন কর বাবদ ব্রিটিশ সংস্থা কেয়ার্ন এনার্জির কাছে প্রায় ১০ হাজার ২০০ কোটি রুপি দাবি করেছিল ভারত সরকার। এ বিষয়ে কোম্পানিকে আয়কর বিভাগ ২০১৪ সালে একটি নোটিশ দেয়। এক বছর পর ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডসের প্রশাসনিক রাজধানী হেগের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলা করে কেয়ার্ন। সব কাগজপত্র যাচাই, ভারত সরকারের আইন ও চুক্তিপত্র বিশ্লেষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষিত রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে বলা হয়েছে, ব্রিটেন-ভারত দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির বিধি ভেঙেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই রায়ের ফলে ভারত সরকার ব্রিটিশ কোম্পানি কেয়ার্নের কাছে দাবিকৃত ২৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পাওয়ার কোনো পথ আর রইল না। উল্টো ভারতকে ৮ হাজার কোটি রুপি জরিমানা করেছে আদালত। যদিও মামলা আপিল করার কথা জানিয়েছে ভারত। তবে সেটি দেশটিতে বিদেশি বিনেয়াগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

ট্রাইব্যুনাল আরও বলছে, কেয়ার্ন সংস্থার ওপর রেট্রোস্পেক্টিভ কর চাপিয়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার জেরে ৮ হাজার হাজার কোটি ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে ভারতকে।

এদিকে মামলায় জেতা টাকার অঙ্ক লন্ডন শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কেয়ার্নের মঙ্গলবারের (২২ ডিসেম্বর) বাজারমূল্যের সমান। অর্থাৎ এ মামলায় যদি ভারত সরকার জিতত তাহলে কেয়ার্ন তাদের পুরো কোম্পানির সমমূল্যের অর্থ পরিশোধ করতে হতো অথবা কোম্পানি বিক্রি করে দিতে হতো। যে কারণে এ ঘটনায় বাণিজ্য বিশ্বে হইচই পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ব্রিটিশ সংস্থা কেয়ার্ন এনার্জির পক্ষ থেকে কেয়ার্ন ইন্ডিয়ার অধিকাংশ শেয়ার বেদান্তের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৭ সালের ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী লাভের হিসাব করে অতিরিক্ত করের দাবি করে ভারতের আয়কর বিভাগ। পাশাপাশি আরো কিছু ক্ষেত্রে করের দাবি ছিল তাদের।