ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা

0
129

করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এখন পর্যন্ত ৭ জন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়ত-উদ-দৌলা খান।

দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রোমে জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাশেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক হায়ত-উদ-দৌলা খান জানান, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরবর্তী ঘোষণা দেয়া না পর্যন্ত লকডাউন চলবে। লকডাউন চলাকালে যে কেউ এই জেলাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তেমনিভাবে এ জেলার বাসিন্দারা অন্য জেলায় প্রবেশও করতে পারবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো থাকবে। তেমনিভাবে নদীপথেও পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে।

তবে জরুরি পরিসেবা চিকিৎসা, কৃষিপণ্য, গবাদি পশু খাদ্য, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ,সরবরাহ , গণমাধ্যম কর্মীরা এর আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি সেবা পরিচালনা করার জন্যে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক আওতামুক্ত মুক্ত থাকবে। যারা এই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে সভায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরবর্তী ঘোষণা দেয়া না পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে। লকডাউন চলাকালে যে কেউ এই জেলাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

তেমনিভাবে এ জেলার বাসিন্দারা অন্য জেলায় প্রবেশও করতে পারবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আমাদের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নদীপথে টহল ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রত্যেক গ্রামে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হবে। এই কমিটি এলাকার খাদ্য সংকট ও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের জানাবে। গণমাধ্যম কর্মীদেরকে তাদের আইডি কার্ড সাথে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন মো. একরাম উল্লাহ্ জেলায় আজকে পর্যন্ত ৭ জন করোনা আক্রান্তের কথা নিশ্চিত করে বলেন, জেলার আখাউড়া উপজেলায় ৩জন, জেলা সদরে ২ জন, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১ জন করে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বক্ষবিধি হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখার জন্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীর, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডা: মো: আবুসাঈদ সহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।