Bangladesh News Network

বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

0 3,236

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী খাল পাড়া ও কাজিপাড়ায় এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক অনদীরঞ্জন মন্ডল জানিয়েছেন, নিহতের পায়ে জখম গুরুতর থাকায়, তাকে উদ্ধার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে শহীদ ফরিদ (৪২) নামে এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬ জন পুলিশসহ উভয়পক্ষের ৪০ জন আহত এবং ৩০টি ঘরবাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত আছাদ শেখ নামে আরও একজন ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত ফিরোজ, মাসুদ, সুমন ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও সালথা থানার পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করেন।

ঘটনাস্থল মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর, বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম পরিদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এক সপ্তাহ আগে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মাসুদ শেখের সমর্থক মনিরুল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আ. মান্নান মাতবর সমর্থক নজরুল মোল্লা স্থানীয় কুমার নদে পাশাপাশি পাট পচানোর জন্য জাগ দেয়।

কয়েকদিন পরে মনিরুলের পাটের জাগ হারিয়ে গেলে সে নজরুল মোল্লার বাড়ি গিয়ে পাটের জাগের ব্যাপারে জানতে চায়। এ সময় নজরুল মনিরুলকে বলে আমার পাট উঠিয়ে নিয়ে এসেছে; তোমারটা কোথায় গেছে তা জানিনা। ওই সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার ১০টার দিকে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সড়কি, রামদা ও লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের কিছু লোকজন মাসুদের লোকজনের সাথে পক্ষ দেয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫-৩০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শটগানের গুলি ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়, ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করে থানা পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ ব্যাপারে পরমেশ্বরদী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মো. মাসুদ শেখ বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। ঈদেও বাড়ি যাইনি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা মুকুল আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তাই তার সাথে রাজনীতি করি।

তবে মান্নান মাতবর বিভিন্ন সময় আমাকে ও লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেন, ময়েনদিয়া বাজারে ব্যবসা করতে হলে আমার সাথে রাজনীতি করতে হবে। শুনেছি ময়েনদিয়া বাজারে আমার দোকান ও আমার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে মান্নান মাতবর গং।

আরেক পক্ষের নেতৃত্বকারী পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আ. মান্নান মাতবর বলেন, আমি স্থানীয় রাজনীতি করি।

আমার লোকজনকে দলে নিতে মাসুদ বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখায়। আজকে তার লোকজন আমার পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালালে আমার লোকজনও তাদের উপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এ ব্যাপারে পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম মিনা মুকুল ফোনে বলেন, আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আমার কোন গ্রুপ নাই। সবাই এ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মান্নান মাতবর গ্রুপ ও মাসুদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আগের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধান আসামি আমাকে করা হয়। সংঘর্ষের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে লিপ্তকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য শটগানের গুলি ছোড়ে ও লাঠি চার্জ করা হয়।

সংঘর্ষের এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

তিনি আরও জানান, পুলিশ সদস্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। উভয় পক্ষের বাকি আহতরা বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়ে পলাতক রয়েছে।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: