বিশ্ব সম্প্রদায়কে সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
108

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটে সমন্বিত দায়িত্বশীলতা ও অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে সংকট মোকাবিলা একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

‘ইনহ্যান্সিং রিজিওন্যাল কো-অপারেশন ইন সাউথ এশিয়া টু কমব্যাট কোভিড-১৯ রিলেটেড ইমপ্যাক্ট অন ইটস ইকোনোমিকস’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। গণভবন থেকে অনলাইনে এতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব সম্ভবত গত একশো বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। সুতরাং সবাই একসঙ্গে সঙ্কটের মোকাবিলা করা দরকার। প্রতিটি সমাজ থেকে সমন্বিত দায়িত্বশীলতা এবং অংশীদারিত্বমূলক মনোভাব প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিশ্ব ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করছে। এখন, করোনাভাইরাস আমাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশ্বায়নের বর্তমান পর্যায়ে একটি দেশকে পুরো বিশ্ব থেকে আলাদা রাখা সম্ভব নয় এবং এখানে বিচ্ছিন্নতার নীতি আর কাজ করবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি না, এই মহামারি কতদিন থাকবে। এটি ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অর্থনীতি, ব্যবসা ও সমাজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে; ভয় ও ট্রমা কাটাতে জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বিশ্ব একটি সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এ সংকট মোকাবিলায় আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্বের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচটি প্রস্তাবনায় সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমত: সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে দারিদ্র্য এবং বৈষম্য দ্রুত বাড়বে। গেলো এক দশকে আমরা আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছিলাম। তাদের অনেকে এখন আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। সুতরাং, বিশ্বকে মানবকল্যাণ, বৈষম্য দূরীকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং কোভিড-১৯ এর আগের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নতুন করে ভাবতে হবে।

দ্বিতীয়ত: আমাদের প্রয়োজন জি-৭, জি-২০ এবং ওইসিডির মতো সংগঠনগুলো হতে দৃঢ় ও পরিকল্পিত বৈশ্বিক নেতৃত্ব। জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকেও এগিয়ে আসা উচিত। ইকনোমিক ফোরাম ও জাতিসংঘের উচিত সরকার এবং বিশ্ব ব্যবসাকে এ বিষয়ে একত্রিত করা এবং নেতৃত্ব দেওয়া।

তৃতীয়ত: আমরা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা, কাজ ও উৎপাদনে পরিবর্তন দেখছি। কোভিড পরবর্তী সময়ে, নতুন নীতি, স্ট্যান্ডার্ড ও পদ্ধতি দেখবে পৃথিবী। সুতরাং, আমাদের এমন কৌশল ও বাস্তবমুখী সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন বাংলাদেশের মতো দেশগুলো টিকে থাকতে পারে।

চতুর্থত: অভিবাসী কর্মীরা বেকারত্বসহ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন। এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সুতরাং, বোঝা ও দায়িত্ব শেয়ার করার মতো আমাদের এমন একটি অর্থপূর্ণ বৈশ্বিক কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পঞ্চম: মহামারির সময়ে আমরা কার্যকরভাবে বেশকিছু ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করেছি। যেমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংক্রমণ চিহ্নিত করা। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য আমরা বিভিন্ন সেক্টরে এই রকম উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের সংকটের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারনে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশ সরবরাহ ও চাহিদা দ্বিমুখী সংকটের সম্মুখীন। এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের বরাদ্দ তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

সংকট লম্বা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত, আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। তবে সংকট প্রলম্বিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হবে।

ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সভাপতি বরজ ব্রেন্ডে।