বিশ্বব্যাপী শ্রমিকের কর্মহীন হওয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মে দিবস

0
128

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী আজ পালন হচ্ছে মহান মে দিবস। দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে পরিচিত। অথচ এ বছর দিনটি এলো খুব দুঃসময়ে, শ্রমিকের কর্মহীন হওয়ার সংবাদের মধ্য দিয়ে। গোটা বিশ্ব এখন অদৃশ্য এক ভইরাসের কাছে নতজানু। অর্থের অভাবে বন্ধ হবার পথে বিরাট বিরাট সব কারখানা। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর ওপর যে অত্যাচার চলছে। অবাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে। বাসযোগ্য করতে এ যেন পৃথিবী নিজেই নেমেছে মাঠে।

ইউরোপ-আমেরিকায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেশি। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা। কিন্তু এর প্রভাব তাদের থেকে আমাদের মতো গরিব দেশকেই বেশি প্রভাবিত করবে। ইতোমধ্যেই চারদিকে হাহাকার শুরু হয়েছে। কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে দেদারছে।

এসডিজির (Sustainable Development Goals) ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে প্রথমটি হলো দরিদ্রতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে নিয়ে আসা। এরপরই রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং টেকসই কৃষি। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। পানি, স্যানিটেশন, জ্বালানি নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূর করে অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত, অবকাঠামো উন্নয়ন করে শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবন, বৈষম্য দূর করা। লক্ষ্যমাত্রাগুলোর প্রায় সবগুলো অর্থনৈতিক। করোনার কারণে মানুষ বেকার হলে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পিছিয়ে যাবে।

করোনাভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশ্বের শ্রমশক্তির ৮১ শতাংশই এখন কর্মহীন। অর্থনীতি এত বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে তা হয়তো কারো ভাবনায় ছিল না। রীতিমতো স্তব্ধ বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে।

এ দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে পরিচিত। অথচ এবার দিনটি এলো খুব অসময়ে, শ্রমিকের কর্মহীন হওয়ার সংবাদের মধ্য দিয়ে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশ প্রায় অবরুদ্ধ।

শ্রমিকের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জীবিকার প্রশ্নও সামনে এসেছে। দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত পরিসরে চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সীমিত পরিসরে কারখানা খুলেছে।

আট ঘণ্টা কাজ এবং শ্রমের ন্যায্য মজুরির দাবিতে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা। শ্রমিকদের আন্দোলন মিছিল আরও বেগবান হয় ৩ ও ৪ মে। একপর্যায়ে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। সাত শ্রমিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

১৮৯০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্যারিস কংগ্রেসে বিশ্বব্যাপী মে মাসের ১ তারিখ ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

লেখক: শাহ মনসুর আলী নোমান
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ