বিজয়ের ৫০ বছরে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাকিস্তানের দ্বিগুণ

0
60

বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিগুণের বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ যখন অবস্থান করছিল চার হাজার ২০৯ কোটি ডলারে, তখন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত মাত্র দু’ হাজার ৪০ কোটি ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ে ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত চার হাজার দু’শ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। আর ব্যাংকাররা বলছেন, নগদ প্রণোদনায় বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হয়েছেন প্রবাসীরা। পাশাপাশি আমদানিতে ধীরগতি ও বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলেও মত তাদের।

আরও পড়ুন: ‘বিজয় দিবসে ৪২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ জাতির জন্য উপহার’

পরিসংখ্যান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে। গত অর্থবছরেই প্রথম এসব প্রবাসীর পাঠানো অর্থের বিপরীতে নগদ দু’শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হয় বাজেটে। তারপর থেকেই বৈধ পথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পায়।

সেই সুফল এখন দেশবাসী পাচ্ছে বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস-উল-ইসলাম। বলেন, সরকার দুই শতাংশ প্রণোদনা দিয়েছে এবং অগ্রণী ব্যাংক আরও এক শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ায় মোট তিন শতাংশ লাভ পেয়েছে প্রবাসীরা। এতে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছর এক হাজার ৮০২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় আসে। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিমাণ ১১৭০ কোটি ডলারের বেশি। সাথে আমদানি কমে যাওয়া, রফতানি বেড়ে যাওয়া এবং বিদেশি ঋণের প্রবৃদ্ধিতে রিজার্ভ বছর ব্যবধানে বেড়েছে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি। এর সাথে অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে এসেছে ১৬৫ কোটি ১০ ডলার বিদেশি ঋণ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। এই চার মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে বাংলাদেশ পণ্য রফতানি করেছে ১৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, চলতি অর্থবছরে আমদানি কমা ও রফতানি বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ অনেক কমেছে। যা ইতিবাচক প্রবণতা। এই প্রবণতা ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রবাসী শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে হবে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দু’হাজার ৫০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৯ সালের পুরো বছরের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ এক হাজার আটশ ৩৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।