বিজিএমইএ কারখানা খোলা বা বন্ধ রাখার কোন দায় নেবে না

0
127

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেস্কঃ

করোনারভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকির মধ্যেই তৈরী পোশাক কারখানা খোলা রাখা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে শ্রমিকের ঢাকায় ফেরা এবং আবার বাড়ি ফেরার ভোগান্তির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতির দায় নিতে রাজি নয় পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাদের দাবি, সবই হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তে। তারা বরাবরই সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে চলেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএ জানায়, কারখানা খোলার ব্যাপারে বিজিএমইএর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। কারখানা চালু করার আগে আমাদের নিজেদেরকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে হবে।

বিজিএমইএর দাবি, ২০ মার্চ করোনার প্রাদুর্ভাব যখন বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করে তখন বিজিএমইএ সব অংশীদারের সমন্বয়ে একটি জরুরি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নেয় এবং চিঠি দেয়। ২১ মার্চ শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে তার দফতরে এফবিসিসিআই, বিইএফ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রতিনিধিদের সাথে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পোশাক কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে সবাই একমত হন। ২২ মার্চ শ্রম প্রতিমন্ত্রী দেশের শিল্পখাতের শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে তার দফতরে বৈঠক করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে পোশাক কারখানা খোলা রাখা হবে।

২৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় ‘প্রয়োজনে ওষুধ শিল্প ও রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখতে পারবে’। পরবর্তীতে এ-সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সব সার্কুলারেও রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোকে সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত রাখার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়। শুধু বিজিএমইএ নয়, বরং উপরি উক্ত দু’টি সভায় অংশগ্রহণ করা সব প্রতিনিধি ও অংশীদারের ঐকমত্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তা ১২ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২৬ মার্চ সকালে বিজিএমইএ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সব কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক কারখানা ছুটির ঘোষণা দেয়ার সময় শ্রমিকদেরকে ছুটিকালীন ঢাকার নিজ বাসায় অবস্থান এবং সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা পালন করে চলতে বলা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ এপ্রিল কল-কারখানা অধিদফতর ‘শিল্প কারখানা চালু প্রসঙ্গে একটি নির্দেশনা জারি করে। যেখানে উল্লেখ করা ছিল ‘এমতাবস্থায়, যেসব রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ রয়েছে ও শিল্প কলকারখানা সচল রাখতে আগ্রহী এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি অপরিহার্য পণ্য যেমন- পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, স্যানিটাইজার, ওষুধপত্র ইত্যাদি উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেসব কল-কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করে শিল্প কল-কারখানা চালু রাখতে পারবেন। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে স্পষ্টীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

বিজিএমইএর দাবি, ছুটি শেষে শ্রমিকদের দলবেঁধে ঢাকায় ফেরার দৃশ্য আমাদের নজরে এলে আমরা সবার সাথে পরামর্শক্রমে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেই। বিজিএমইএর অন্তর্ভুক্ত কোনো কারখানা কোনো অবস্থাতেই বন্ধ রাখার আইনগত কোনো কর্তৃত্ব রাখে না দাবি করে এতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার সরকারি নির্দেশনায় কিংবা ঐচ্ছিকভাবে সম্পূর্ণ সেই কারখানা কর্তৃপক্ষ বহন করে। বিজিএমইএ বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংগঠন মাত্র।

বিজিএমইএ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার গাজীপুরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য গার্মেন্ট কারখানা খোলা রাখার তীব্র সমালোচনা করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিজিএমইএ। ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশ সুপার বলেন, লকডাউন নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা গাজীপুরে মাঠপর্যায়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এর প্রধান চ্যালেঞ্জ গাজীপুরে যেসব ফ্যাক্টরি খোলা থাকছে সেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য এক হাতে ব্যাগ আর এক হাতে কোলের শিশুকে নিয়ে শ্রমিকরা আসছেন। অনেক ফ্যাক্টরির মালিক আছেন যারা ২৪-২৫ তারিখে দুই মাসের বেতন দিয়ে দিয়েছেন। এমন উদার মানুষও ফ্যাক্টরির মালিক আছেন। কিন্তু এখনো অনেক মালিক আছেন যারা বেতন দেবেন বলে এই অসহায় শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে আসছেন এবং তার পর বেতন দিতে পারছেন না। এটা গাজীপুরে লকডাউন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। তিনি বলেন, আমাদের জেলাটা প্রথম থেকে বেশ ভালো ছিল। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করে আমরা অবস্থা অনেক ভালো রেখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন এই গার্মেন্ট খুলে গেল এবং সবাই আসতে শুরু করল তখন পরস্থিতি খারাপ হলো। অনেক গার্মেন্ট পিপিই তৈরির কথা বলে অন্য কাজ করছে।