Bangladesh News Network

বাদগিজের রাজধানীতে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করেছে তালেবান

0 4,310

আফিগানিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বাদগিজের রাজধানীতে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করেছে তালেবান বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, তারা পুলিশের প্রধান কার্যালয় দখলে নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তালেবানকে তাড়িয়ে দিতে আফগান বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে। এছাড়াও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিদপ্তরের (এনডিএস) প্রাদেশিক কার্যালয়ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ বাহিনী এসে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার আগে তারা সরকারি অফিসগুলো দখলের চেষ্টা করেছে।-খবর রয়টার্সের

তিনি বলেন, তালেবান এখন শহরের ভেতরেই আছে। অল্প সময়ের জন্য শহরের পতন ঘটেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র ফাওয়াদ আনাম বলেন, পুলিশ ও এনডিএস কার্যালয় ফের সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শহর থেকে তালেবানকে সরিয়ে দেওয়া হবে দ্রুতই।

আর বাদগিজের প্রাদেশিক পরিষদে সদস্য আবদুল আজিজ বেক বলেন, দুপুরের দিকে তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। তবে শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আর সকালে তিন দিক থেকে কুলয়াহু-নাও শহরে হামলা চালিয়েছে তালেবান বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নর হুসামুদ্দিন শামস। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা জবাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা শহরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে প্রবেশ করেছে। পরে শত্রুরা শক্তিশালী আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। তবে দুঘণ্টার লড়াইয়ের পরে শত্রুবাহিনী পিছু হটেছে।

আবদুল আজিজ বেক বলেন, কুলয়াহু-নাও বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয়রা বিভ্রান্তিতে ছিলেন। কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক বন্দি শহরের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

দুই দশকের লড়াই শেষে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা আসলে তালেবান দ্রুতই বিভিন্ন শহর অতিক্রম করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে আফগান সেনারা যেমন আত্মসমর্পণ করছে, তেমনই স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

শামস বলেন, বাদগিজের রাজধানী বাদে অন্যান্য জেলাগুলো তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। এসব জেলা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নেওয়া হয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদী বলেন, যুদ্ধ বর্তমানে একটি কঠিন পর্যায়ে চলে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী দেশকে সুরক্ষা দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসী সব সম্পদ ও শক্তি নিয়ে লড়াইয়ে নামবে।

কাতারে তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের আলোচনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খুব একটা এগোয়নি। যদিও যুদ্ধের দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে আসছে।

এদিকে আফগানিস্তানের সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান।
বুধবার তালেবান প্রতিনিধিদের শিয়াসংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি আহ্বান জানায়, তারা যাতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

আফগান সরকারের প্রতিনিধি ও তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, রাজনৈতিক সমাধান বের করাই সবচেয়ে ভালো উপায় হবে।

এদিকে আফগানদের না জানিয়ে একেবারে মধ্যরাতে বাগরাম বিমান ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ঘাঁটির নতুন কমান্ডার এমন দাবিই করেছেন।

জেনারেল আবদুল্লাহ কোহিস্তানি বলেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত তিনটার দিকে বাগরাম ছেড়েছে মার্কিন বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর আফগান বাহিনী তা জানতে পেরেছে।

বাগরামে একটি কারাগারও ছিল। এতে আটক পাঁচ হাজার তালেবান বন্দি সেখান থেকে চলে গেছেন। মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর জোরালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে তালেবান।

আবদুল্লাহ কোহিস্তানি বলেন, বাগরামে তালেবান হামলা চালাতে পারে বলে মনে করেছিল আফগান বাহিনী। বিমানঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিন আরও বলেন, আশপাশের গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্রোহীরা অগ্রসর হচ্ছে। এ সংক্রান্ত খবর আমার কাছে আছে।

এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আপনি জানেন, আমরা যদি নিজেদের আমেরিকানদের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে বিশাল ব্যবধান দেখতে পাবেন। কিন্তু সক্ষমতা অনুসারে, আমরা সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করছি। আমাদের জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: