বাগেরহাট ও মোংলার প্রশাসনের নিকট খোলা চিঠি

0
263

অনিক চৌধুরী, মোংলা,বাগেরহাট :

জনাব,
কুশল জানবেন। আপনি এবং আপনার দপ্তরের সবাই নোভেল করোনা ভাইরাস থেকে সাধারণ মানুষদেরকে বাচানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে লড়ে যাচ্ছেন আমি আপনাদের এই কর্মযজ্ঞকে শ্রদ্ধা জানাই!

করোনার সংক্রমণ বিশ্বের দুইশত এর বেশি দেশে ছড়িয়েছে এবং খুব দ্রুত এটি ছড়াচ্ছে! আমাদের প্রিয় মাতৃভুমিতেও ইতিমধ্যে এর সংক্রমন ছড়িয়েছে এবং তা দ্রুত গতিতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন!

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিদেশ ফেরত কর্মীরা কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এমন নিউজ আমরা দেখেছি!বাংলাদেশ সরকারের সাধারণ ছুটি না মেনে গার্মেন্টস খোলার কারনে হাজার হাজার গ্রামের শ্রমিকরা ঢাকাতে যায় এবং পরের দিন গার্মেন্টস ছুটি ঘোষনা করলে অনেকেই পরেরদিন করোনার জন্য কোনো রকম প্রতিরোধক না মেনে জনসমাগমের মাধ্যমে যার যার বাড়িতে ফিরে আসে।এমতাবস্থায় গ্রামে গ্রামে করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশংখা দেখা দিয়েছে!

সরকার যেখানে করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রোনাদণা প্যাকেজ ঘোষনা সহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সেখানে শুধু মাত্র শহরেই করোনা সচেতনতার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ! আমি শুধু আমার এলাকার কথা বলি, মোংলা উপজেলার মোংলা পোর্ট পৌরসভাতে যে পরিমান সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে তা গ্রামে হচ্ছে না! শহরে প্রায় সব শিক্ষিত এবং চাকরিজীবী মানুষের বসবাস!তারা গ্রামের মানুষের থেকে সচেতন বেশি থাকে! কিন্তু বৈশ্বিক এই মহামারীতে গ্রামের মানুষ মানছে না কোনো নিয়ম কানুন,শুনছেনা কারো কথা!

এখন পর্যন্ত গ্রামের সাপ্তাহিক বাজার গুলো চলছে এবং হাজার হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে!বিকাল হলেই গ্রামে যেন মেলা বসছে!সন্ধ্যায় গ্রামের দোকানগুলোতে চলছে চায়ের আড্ডা! চলছে খোলামেলা ধুমপান!আর এই সব লোকগুলো বেশির ভাগ শহর থেকে গ্রামে এসেছে কিংবা বিকাল হলেই একগ্রাম থেকে আসছে অন্যগ্রামে! এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ মারা যাবে!

এমতাবস্থায়,জনাবের কাছে স্ববিনয় নিবেদন,আমাদের উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করেদিন!প্রতিটা গ্রাম লকডাউন করে দিন! গ্রামের সাপ্তাহিক বাজার বন্ধ করে দিন! গ্রামের দোকানে যাতে বাইরে থেকে আসা লোকজন আড্ডা দিতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহন করুন! প্রয়োজনে সকালে দোকান খোলা রাখুক দুই ঘন্টা আর সারাদিন ও রাত বন্ধ থাকুক!স্থানীয় মাঠে ফুটবল সহ সকল ধরনের খেলা বন্ধ করে দিন!

প্রতিদিন অন্তত একবার গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের ব্যবস্থা করুন! গ্রামের লোক এখনো দল বেঁধে মসজিদে যাচ্ছে এবং গাল গল্প করছে, জমায়েত করছে এগুলো বন্ধ করার জন্য গ্রামে বেশি বেশি সচেতনতামূলক প্রচার দরকার, সেটার ব্যবস্থা করুন!
গ্রামের শত শত খেটে খাওয়া মানুষ যাদের কর্ম নেই তাদের ত্রানের ব্যবস্থা করুন!

জনাব,আশা করি উপরোক্ত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদেরকে করোনার সংক্রমণ হতে বাচাবেন!