বাংলাদেশের পাট উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে ভারত

0
62

শুরুটা ২০১৭ সালে। বাংলাদেশের পাটপণ্যের উপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারত। সেসময় ভারতের রাজস্ব বিভাগ প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান ভারতে পাটসুতা, চট ও বস্তা রপ্তানি করতে চাইলে প্রতি মেট্রিক টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের অভিযোগ, দেশটির স্থানীয় বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে পাট রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। এ ধরনের পরিস্থিতিকে ডাম্পিং বলা হয় এবং তাতে আমদানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর থেকে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এক ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়, যাকে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক বলা হয়।

অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের আগে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সাফটার আওতায় ভারতে শূন্য শুল্কে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আসছিলো বাংলাদেশ। তবে শুল্ক আরোপের পর ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানিতে ব্যাপক ধস নামে।

বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার পর এবার বাংলাদেশের পাট উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে প্রতিবেশি দেশটি।

পাট উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে প্রায় ৯০ শতাংশ পাটবীজ আমদানি করতে হয়। যার সিংহভাগই আসে ভারতে থেকে।

এই সুযোগটাই কি নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশটি?

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) কৃষি খাত নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভাচুয়াল বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, পাটবীজ রপ্তানি নিয়ে ভারতের মনোভাবের কথা। তবে কেন বন্ধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন উত্তর নেই তাদের কাছে।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, পাটের বীজ আসে ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র থেকে। পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজের পর এবার পাটের বীজ রপ্তানিতেও বাধা (রেসট্রিকশন) দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে ভারত। আমরা চেষ্টা করছি যাতে তারা পাটবীজ রপ্তানিতে বাধা না দেয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয় যা থেকে প্রায় ৮০ লাখ বেল পাটের আঁশ উৎপন্ন হয়। দেশে পাটচাষীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। জিডিপিতে পাটের অবদান শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।