Bangladesh News Network

বাংলাদেশকে টিকা দেওয়া নিয়ে ভারতের ভিন্ন কথা

0 3,558

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভারত নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত টিকা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দোরাই স্বামী বলেন, ‘কোভিডের সময়ে আমরা আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। আমাদের টিকার উৎপাদনও বেড়েছে। ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা থাকার পরই আমরা বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে পারব। কারণ বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ।’

তবে কবে নাগাদ বাংলাদেশ টিকা পেতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি হাইকমিশনার।

বাংলাদেশকে টিকা দেওয়া নিয়ে ভারতের নয়-ছয় কাটছেই না। দিল্লিতে যাওয়ার সময় চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত ভ্যাকসিন আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাংলাদেশে ফিরে ভিন্ন কথা বললেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাই স্বামী।

এর আগে, ১৮ জুলাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত টিকা যেন এ দেশে সরবরাহ করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা করতে নিজ দেশে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

ওই সময় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ভারতে কোভিড টিকার উৎপাদন বেড়েছে। আমাদের নিজ দেশেও চাহিদা বেড়েছে। ভারতে উৎপাদিত টিকা যেন দ্রুত সময়ে বাংলাদেশকে দেওয়া যায় এ বিষয়ে আলোচনা করতে দিল্লি যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভালো কিছু হবে।’

কিন্তু সেই ভালো কিছুর বার্তা দিতে পারলেন না বিক্রম দোরাই স্বামী। একইপথে বাংলাদেশে ফিরে উল্টো শোনালেন হতাশার কথা। এমনকি টিকা পেতে অগ্রিম হিসেবে ৬০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করার বিষয়েও কোনো কথা বলেননি তিনি।

এদিকে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান শুরু হয়।

কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউট দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে সরকার চীনা টিকা কেনার উদ্যোগ নিলেও যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন, তাদের জন্য ওই টিকার বিকল্প নেই। ফলে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি।

এরইমধ্যে কেনা টিকার বাইরে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৩২ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড পেয়েছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে হাতে ছিল এ টিকার ১ কোটি ২ লাখ ডোজ।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ছিল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের। সেজন্য অগ্রিম হিসেবে ৬০০ কোটি টাকার বেশি তাদের পরিশোধও করা হয়েছিল।

কিন্তু ভারত আগে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলে ফেব্রুয়ারির পর কেনা টিকার আর কোনো চালান সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে বাংলাদেশ পায়নি। এ টিকা কেনায় বাংলাদেশে সেরামের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’ এর ভূমিকায় রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: