Bangladesh News Network

ফেসবুকে কী করা যাবে, কী করা যাবে না

0 5,720

হঠাৎ করেই ফেসবুকে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো পোস্ট রিমুভ হচ্ছে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের বা নিজের ওয়ালে শেয়ার করা অন্যের পোস্টও ফ্লাগশিপ (ঢেকে) করে দিচ্ছে ফেসবুক। অনেক সময় ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো যায় না। কখনো দেখা যায় পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ার বন্ধ হয়ে গেছে। বহু ফেসবুক ব্যবহারকারীকে এসব সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যায় পড়ার পর অন্যের সাহায্য চাওয়া হয়। কিন্তু ফেসবুকের একেবারে সাধারণ নিয়মনীতি মেনে চললে এসব সমস্যা হয় না। ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের এই নির্দিষ্ট নীতিমালাকে বলা হয় ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’।

বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক। বিশ্বে বর্তমান এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ। ফেসবুকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। এ ছাড়া ফেসবুকের অন্য তিনটি প্লাটফর্ম রয়েছে। যেগুলো হলো; ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম। চারটি প্লাটফর্ম কোনো না কোনোভাবে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। চার প্লাটফর্মের কমিউনিটি গাইডলাইন মোটামুটি প্রায় একই রকম।

সাধারণ আমরা কোনো পণ্য বা সেবা নিলে সেখানে একটি নির্দেশিকা থাকে। তেমনি ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন হলো এই প্লাটফর্ম ব্যবসারকারী কমিউনিটিতে যারা রয়েছেন তাদের জন্য একটি নির্দেশিকা। এখানে কী করা যাবে, কী করা যাবে না এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ফেসবুক নিয়মিত এই নির্দেশিকা আপডেট বা হালনাগাদ করে থাকে। সর্বশেষ গত মে মাসে তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। এখানে মূলত দুই ধরনের নির্দেশিকা রয়েছে। একটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য। অন্যটি বিজ্ঞাপন দাতাদের জন্য।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ৬টি ভাগে বিভক্ত। এক. সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ। দুই. নিরাপত্তা। তিন. আপত্তিজনক কনটেন্ট। চার. সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। পাঁচ. মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রাপার্টি)। এবং ছয়. অনুরোধ ও সমাধান।

সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ:
যে কোনো ধরনের সহিংসতা এবং উসকানিমূলক পোস্ট করা যাবে না। এমনকি হিংস্র বিষয়কে আরও বেশি প্রচারের জন্য বা বিষয়টি নিয়ে মজা করার জন্য তৈরি কোনো গ্রাফিকস পোস্টও করা যাবে না। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো’
১. সহিংসতা এবং উসকানিমূলক পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
২. বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং সংস্থার নেতিবাচক কার্যকলাপ পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৩. সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৪. সংঘবদ্ধ সহিংসতা বা অপরাধমূলক কার্যক্রম পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৫. গণহত্যা (চেষ্টাসহ) বা একাধিক হত্যা ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৬. মানব পাচারকে উৎসাহিত করে এমন পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৭. কোনো অপরাধে সহায়তা বা অপরাধ প্রচার করে পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।
৮. বিধিবব্ধ যার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না। যেমন: অ্যালকোহল ও অস্ত্র।
৯. জালিয়াতি এবং প্রতারণামূরক পোস্ট।

নিরাপত্তা:
কোনো মানুষের জন্য কোনোভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন পোস্ট করা বা অন্যের করা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়গুলো হলো;
১. শরীরের নিজের তৈরি আঘাতের চিহ্ন অথবা আত্মহত্যা করার চেষ্টার ছবি পোস্ট করা যাবে না। তবে আত্মহত্যা সম্পর্কিত যে কোনো সংবাদ (বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত) শেয়ার করা যাবে।
২. শিশু যৌন নির্যাতনের কোনো ধরনের লেখা, ছবি বা ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার দেওয়া যাবে না। অন্যের পোস্ট করা কনটেন্টও শেয়ার করা যাবে না।
৩. প্রাপ্তবয়স্কদেরও কোনো নগ্নতাপূর্ণ লেখা, ছবি বা ভিডিও পোস্ট বা শেয়ার করা যাবে না।
৪. ফেসবুক ব্যবহার করে কাউকে কোন ধরনের হুমকি এবং হয়রানি করা যাবে না।
৫. যে কোনো ধরনের মানব শোষণের ভিডিও কিংবা ছবি ফেসবুক গ্রহণ করে না। যেমন: মানবপাচার, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক শ্রম বা অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ।
৬. কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফেসবুকে ফাঁস করা যাবে না। একান্ত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা যাবে না।

আপত্তিজনক কন্টেন্ট:
১. হিংসাত্মক বক্তৃতা লিখিত বা ভিজ্যুয়াল আকারে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া যাবে না। কোনো জাতি অথবা মানুষের ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করা যাবে না।
২.ধর্ষণ, মৃতদেহ ও দুর্ঘটনাসহ নিম্নে উল্লেখিত বিষয়াবলির ছবি অথবা ভিডিও পোস্ট করা যাবে না। যেমন; ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও, মৃতদেহের ছবি ও ভিডিও, দৃশ্যমান অভ্যন্তরীণ অঙ্গ (খালি শরীরের ছবি), আংশিক পচে যাওয়া শরীর, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার, দুর্ঘটনায় রক্তপাত, মারামারি, মাথা থেকে শরীর বিচ্ছিন্ন, আগুন সরাসরি সম্প্রচার, শ্মশানে মৃতদেহ পোড়ানো, যে কোন ধরনের নির্যাতন- শিশু যৌন নির্যাতন, নারী যৌন নির্যাতন , অপ্রাপ্ত বয়স্ক নির্যাতন, প্রাণী শিকার, প্রাণী হত্যা, প্রাণী জবাই, প্রাণীর ক্ষত বা কাটা দৃশ্যমান, গর্ভপাত, পরিত্যক্ত নবজাতক শিশু ইত্যাদি।
৩. প্রাপ্তবয়স্কদের নগ্নতা এবং যৌন কার্যকলাপ কোনো ছবি দেওয়া যাবে না। যৌনতা কার্যকলাপ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, যৌন আবেদন, যৌনাঙ্গের উন্মুক্ত ছবি, যৌনতা সংক্রান্ত ‘ডিজিটালাইজড’ ছবি ফেসবুকে দেয়া নিষিদ্ধ। নগ্নতাপূর্ণ এবং অশালীন পোস্ট দেওয়া যাবে না।

সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা:
ফেসবুক ভুয়া আইডি, স্প্যাম, ভুয়া নিউজ সরানোসহ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাধারণত যেসব আইডি বা কনটেন্ট ফেসবুক সরিয়ে ফেলে বা সাময়ীকভাবে ব্লক কিংসা ফ্লাগশিপ করে সেগুলো হলো;
১. কোনো কারণে কোনো আইডি ভুয়া সন্দেহ হলে।
২. স্প্যামিং করলে। যেমন, একই কমেন্ট বা পোস্ট অব্যহতভাবে বিভিন্ন গ্রুপে, পেজে বা কমেন্টে করলে।
৩. সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিতমূলক পোস্ট করলে।
৪. অবিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রচার বা পোস্ট করলে।
৫. ভুয়া খবর পোস্ট বা শেয়ার করলে।

মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি):
ফেসবুক ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রক্ষা করার জন্য ব্যবহারকারী এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফেসবুক অন্য কারও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, কপিরাইট এবং ট্রেডমার্ক পোস্ট গ্রহণ করে না। এর মধ্যে মূলিত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক. কপিরাইট। দুই. ট্রেডমার্ক।

অনুরোধ ও সমাধান:
যদি কোন ব্যবহারকারী তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরাতে অনুরোধ করে তাহলে ফেসবুক তা করে থাকে। একজন নিহত ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সরানোর অনুরোধ ফেসবুক পেলে সেটিও যাচাই-বাছাই করে ফেসবুক সরিয়ে দেয়। সাধারণত কোনো আইডি বা কনটেন্ট যদি ফেসবুকের গাইডলাইন অমান্য করে বা কারো নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করে তাহলে সেই কনটেন্ট বা আইডি রিমুভ করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে যে কেউ অনুরোধ করতে পারেন। অভিযোগের বিষয় পর্যালোচনা করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজে থেকেই এমন অনেক পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদারকি টিমও রয়েছে এসব বিষয় দেখভাল করতে।
উপরের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অমান্য করলে ফেসবুক সয়ংক্রিয়ভাবে অনেকে আইডি লিমিট (রেস্ট্রিকটেড) করে দেয়। কখনো সাত দিন বা এক মাসের জন্য পোস্ট করা বন্ধ, কখনো কমেন্ট ও শেয়ার করা বন্ধ হয়। তবে এই সমস্যাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর ঠিক হয়ে যায়। এর মধ্যে যদি কারো আইডি ভুয়া মনে হয় তাহলে তার আইডি নিষ্ক্রিয় (ইনঅ্যাক্টিভ) করে দেয়া হয়। তবে ওই আইডি যদি সঠিক হয় তাহলে প্রমাণসহ (জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি/পাসপোর্টের কপি বা অনুরূপ) অনুরোধ করলে সেই তথ্য যাচাই করে আইডি সক্রিয় করে দেয়।

লেখক: হেড অব এসইও, সময় মিডিয়া লি.।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: