প্রতিদিন সারা দেশে ৫০ হাজার মানুষকে খাবার দিচ্ছে পুলিশ

0
116

ঢাকায় ৬ হাজার মানুষকে খাবার দিচ্ছে পুলিশ
► সারা দেশে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার জনকে
► মৃতদেহ দাফন, রোগীদের হাসপাতালে ভর্তিসহ মানবিক কাজে সম্পৃক্ত এক লাখ পুলিশ

রাজধানীতে ছয় হাজারসহ সারা দেশে ঘরে বন্দি বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষকে প্রতিদিন এক বেলা করে খাবার দিচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, কেউ মারা গেলে মৃতদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষকে ঘরে থাকার তদারকি করা, সরকারি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করার পাশাপাশি এই মুহূর্তে সব ধরনের মানবিক সেবা দিতে পুলিশ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা দেশে পুলিশের প্রতিটি ইউনিট নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দিয়ে মানুষের পাশে রয়েছে। বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি জেলার এসপিসহ সব পুলিশ সদস্যকে বলা হয়েছে, মানুষের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে। বরাবরই পুলিশ দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ অসহায়, তাই পুলিশকে আরো বেশি তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বন্দি ঢাকাসহ সারা দেশে কমপক্ষে ৫০ হাজার লোকের প্রতিদিনের এক বেলার খাবারের ব্যবস্থা করছে পুলিশ। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব ইউনিটের ত্রাণ বিতরণসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। বিশেষ করে খাবারের জন্য কাউকে লাইন দিতে হচ্ছে না। পুলিশের গাড়িই বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে কর্মকর্তাসহ সারা দেশে কমপক্ষে এক লাখ পুলিশ অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন ছয় হাজার ঘরে বন্দি নিম্ন আয়ের মানুষকে এক বেলা করে খাবার দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব ইউনিট। এসব খাবারের মধ্যে কোনো দিন জনপ্রতি একটি করে ডিম ও খিচুড়ি, আবার কোনো কোনো দিন সহজে রান্না করা যায় এমন খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এসব খাবার রান্না করা হচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিওএমের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) রান্নাঘরে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে খাবার প্রস্তুত করে থানায় থানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে কোন থানায় কত খাবার লাগবে তা আগে থেকে তালিকা করা হয়। এ ছাড়া আলাদা প্যাকেটে করে পাঁচ কেজি চাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করছে তারা।

এত মানুষের খাবার খরচ কিভাবে জোগাড় হচ্ছে জানতে চাইলে ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, নিজেদের বেতনের টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সহযোগিতা করছে।

এদিকে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদকর্মী, ব্যাংকারসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে পুলিশে ফোন করার অনুরোধ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। এমন হুমকি কেউ পেলে তাত্ক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অথবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশে অনেক এলাকায় করোনা আক্রান্ত বা করোনার উপসর্গ আছে এমন রোগী, বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের বাড়িওয়ালারা বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাক্তার, নার্সসহ সাংবাদিকদের বাড়ি থেকে বের হওয়া ও ঢোকার নতুন নিয়ম করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

জানতে চাইলে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘রোগী, ডাক্তার, নার্স এমন কাউকে বাসায় উঠতে কেউ বাধা দিচ্ছেন এমন অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন আমরা মানুষকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছি।’

এ ছাড়া কালের কণ্ঠ’র বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো চিত্র—

রাজশাহী : রাজশাহী জেলা পুলিশ চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় থানার ওসিরা ত্রাণ বিতরণ করছেন। জানা যায়, রাতের আঁধারে এসব ত্রাণ বিতরণ করতে বলা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীতে পুলিশের সাঁজোয়া যান দিয়ে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা ও করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীদের সাহায্যের জন্য একটি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে।

ঝালকাঠি : যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে সংকোচবোধ করেন, মধ্যবিত্ত সেই পরিবারকে রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। হিজড়া, মাদক ছেড়ে আসা পরিবারগুলোকেও চাল, ডাল, আলু, তেল, লবণ, সাবানসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ মানবিক কাজ দেখভাল করে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন।

শেরপুর : জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০০ মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানোর কর্মসূচি চলছে।