পলাশবাড়ী শিক্ষা অফিসের নামে পুকুরচুরির অভিযোগ

0
101

ভ্যাটের নামে শতকরা ১০ থেকে ১৫ টাকা নেওয়া হলেও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে সাড়ে ৭ টাকা। ঘুষ ছাড়া বরাদ্দের চেক মেলে না। ভ্রমণ ভাতার খবর জানেন না শিক্ষকরা। এটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসের চিত্র। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরাই যেখানে জিম্মি।

ক্ষুদ্র মেরামত, সংস্কার, স্লিপ ও রুটিন মেইনটেনেন্সসহ বিভিন্ন খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ জমা রাখা হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হিসাব নম্বরে। শিক্ষকদের ভ্রমণ ভাতার নামে পুকুরচুরির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর অর্থ সম্পাদক শহিদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ১০ শতাংশ হিসাবে আমার ভ্যাট কাটা হয়েছে কিন্তু জমা দেওয়া হয়েছে সাড়ে সাত শতাংশ হিসাবে।

সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল হক বলেন, শিক্ষা অফিসে আমরা একাধিকবার গিয়েছি কিন্তু আমাদের টাকাটা দেওয়া হয়নি।

সরকারি বরাদ্দ থেকে ভ্যাট বাবদ শতকরা ১০ ও ১৫ টাকা কেটে নিয়ে শতকরা সাড়ে সাত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পর বেঁচে যাওয়া ১৩ লাখ একাত্তর হাজার ৭৫০ টাকা এবং পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডাবল বরাদ্দ দিয়ে সাড়ে ৯ লাখ টাকা গায়েব করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের ভ্রমণ বিলের নামে শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আসাদুল ও অফিস প্রধান আব্বাস আলী দুই কিস্তিতে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪০ টাকা উত্তোলন করলেও কয়েকজন শিক্ষককে মাত্র ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ বলেন, ফাঁকা বিলে সই নিয়ে আমাকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এটাই আপনাদের বিল।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম অভিযোগ স্বীকার করে ঝটপট সটকে পড়েন।

এদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

গাইবান্ধার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, বিষয়টিতে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটা আমি নেব।

অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালামের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে।