নেপালে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন সাধারণ নির্বাচনের সুপারিশ

0
105

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে নতুন সাধারণ নির্বাচনের সুপারিশ করেছেন।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকালে মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ সুপারিশ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এদিন মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, নেপালে প্রভাব বিস্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চীন আর ভারত ওঁৎ পেতে আছে।

অন্যদিকে, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ দেশ দুটির হস্তক্ষেপের অভিযোগও পুরনো।

ওলির এক সহযোগী জানিয়েছেন, নিজ দলের সমর্থন হারানোর পর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে জনসমর্থন চাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নেপালের সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে গড়া জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়েছিলেন ওলি। কিন্তু নিজ দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিকে এড়িয়ে অন্তরঙ্গ একটি উপদলকে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

চীন-পাকিস্তানের তুলনায় নেপাল সীমান্ত ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির। তবে সেই স্বস্তিও হুমকিতে পড়েছে। আর তা প্রকাশ্যে আসে গত ২০ জুলাই। কারণ নেপালের জনগণই নতুন এলাকা নিজেদের দাবি করে সীমানা পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর এসেছে। সম্প্রতি ভারতের দখলকৃত কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি করার পর থেকেই নেপাল ভারত সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েই চলছে। তবে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য তুলে ধরে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে আসছিল, এখানে বেইজিংয়ের ইন্ধন রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৮ মে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চীনের তিব্বত সীমান্তের লিপুলেখের সাথে সংযুক্তকারী ৮০ কিলোমিটার লম্বা একটি রাস্তা উদ্বোধন করেন। তখন তিনি হয়তো ধারণাও করেননি যে এ নিয়ে প্রতিবেশী নেপালের সাথে এত বড় সংকট তৈরি হবে। রাস্তাটি উদ্বোধনের সাথে সাথে নেপাল প্রতিবাদ জানায়, যে এলাকার মধ্য দিয়ে এই রাস্তা নেওয়া হয়েছে তার অনেকটাই তাদের। কোনো কথাবার্তা ছাড়াই এই জায়গার ভেতর দিয়ে ভারতের এই রাস্তা তৈরি তারা কখনই মানবে না। নেপাল সাথে সাথে ঐ অঞ্চলের কাছে তাদের পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানায়।

তারপর ভারতের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে, নেপালের সংসদের নিম্ন-কক্ষ দেশের নতুন একটি মানচিত্র অনুমোদন করেছে যেখানে কালাপানি নামে পরিচিত প্রায় চারশো বর্গকিলোমিটারের ওই পাহাড়ি এলাকাটিকে তাদের এলাকা বলে দেখানো হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনুগত ক্ষুদ্র এই প্রতিবেশীর এসব প্রতিক্রিয়ায় ভারতে একাধারে বিষ্ময় এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতে অনেকের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে – ‘এত বড় পদক্ষেপ কেন এখন নেপাল নিচ্ছে? সড়কটি তো রাতারাতি তৈরি হয়নি, নেপাল তো অনেকদিন ধরেই দেখছে যে ভারত সড়কটি তৈরি করছে।‘

ভারতের সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে সে সময় সরাসরি বলেই ফেলেছেন যে তৃতীয় একটি দেশ হয়তো নেপালকে উস্কে দিয়েছে। চীনের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন তিনি। ভারতে অনেক পর্যবেক্ষকও একইরকম সন্দেহ করছেন। সূত্র: বিবিসি।

তাই নেপালে চীন-ভারতের পুরাতন রাজনীতি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেই রাজনীতির বলিই এখন কেপি শর্মা ওলির সরকারে ভাঙন।

যদিও নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিষ্ণু রিজল বলেছেন, ‘দলের ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন হারানো ওলি এখন দেশকে নতুন নির্বাচনের পথে ঠেলে দিতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দলের সম্পাদকমণ্ডলী, কেন্দ্রীয় কমিটি ও সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারিয়েছেন। এখন দলের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস মিটমাট না করে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে চাইছেন।’

অন্যদিকে, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা নেপালে করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এমনিতেই সমালোচনায় থাকা ওলিকে তার দল হয় প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, দলের শীর্ষ পদ ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

২০২২ সালে নেপালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মন্ত্রিসভা সুপারিশ করায় প্রেসিডেন্ট ভান্ডারির হাতে এখন পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন ডাকার সুযোগ সৃষ্টি হল। কিন্তু নেপালের সংবিধানে মন্ত্রিসভার সুপারিশের ভিত্তিতে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া বিষয়টি না থাকায় বিরোধীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

‘পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি অসাংবিধানিক। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মাধব কুমার নেপালের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে নেপালের একটি ইংরেজি দৈনিক।