নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদককে বহিস্কার করা হয়েছে

0
185

অনিক চৌধুরী, মোংলা থেকে।।

মেংলা থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৬৩৬ এর সভাপতি মোঃ দুলাল হাওলার ও সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহজাহান ফকিরকে চাঁদাবাজি, দলীয় শৃংক্ষলা ভঙ্গ ও দূর্নিতীর দায়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার সাধারন সদস্য পদ থেকে অব্যহতি/ বহিস্কার করা হয়েছে।

জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব এ এইচ মিলন শিকারী স্বাক্ষরিত আজ ২২/০৪/২০২০ তারিখের চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

গত ১৯/০৪/২০২০ তারিখে সর্বপ্রথম বিএনএন টিভিতে উক্ত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কতৃক প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে ৪/৫ শতাধিক শ্রমিকের নিকট হতে চাঁদাবাজি করার খবরটি প্রচারিত হয়।এতে পুরো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তিতে বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, দৈনিক সমকাল, দৈনিক জনকন্ঠ, দৈনিক দেশ রুপান্তর, সিএমবিডি টিভিসহ বেশ কিছু টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।

এরমধ্যেই মোংলা থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের ২ শতাধিক শ্রমিক স্বাক্ষরিত একটি অভিয়োগ পত্র জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক সেন্টু ও সদস্য সচিব এ এইচ মিলন শিকারীর নিকট প্রেরন করেন সাধারন শ্রমিকরা।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত দল গঠন করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার নিকট পেশ করতে বলা হয়।

তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে চাদাবাজির বিষয়টির সত্যতা পেয়ে শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন। সেই তদন্ত রিপোর্টে সকল অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখা ব্যাবস্হা গ্রহন করেন।

বহিস্কারাদেশ এর বিষয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক সেন্টু বলেন, নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদক সাধারন শ্রমিকদের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা এনে দেয়ার কথা বলে চাঁদাবাজি করেছেন, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমরা গন্য করছি। তারা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। তাদেরকে ইতিমধ্যে বহিস্কার করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের মোংলা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব এ এইচ মিলন শিকারী বলেন, নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদক করোনা দূর্যোগের মধ্যে সাধারন দরিদ্র অসহায় শ্রমিকদের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে চাঁদাবাজি করে অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃন্য অমানবিক অপরাধ করেছেন। তারা এর পূর্বেও শ্রমিকদের সরকার কতৃক প্রদত্ত চিকিৎসা ফান্ড থেকে শ্রমিকের জন্য প্রদেয় ৫০ হাজার টাকা দু’জনে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছিলেন। তখন সাধারন শ্রমিকরা অভিযোগ করায় আমরা ব্যাবস্হা নিয়ে সেই অর্থ শ্রমিকদের আদায় করে দিয়েছিলাম। তখন মুচলেকা দিয়ে ও লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ায় একবার তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু এবার তারা যা করেছে সেটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বিধায় তাদের সংগঠন থেকে বহিস্কার সহ তাদের সকল কার্যক্রম স্হগিত করা হয়েছে। অচিরেই খুলনা শ্রম অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে।

বহিস্কারাদেশ এর বিষয়ে নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নে সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে কথা বলার জন্য তাদের মুঠো ফোনে বারবার কল দিলেও তারা কেউ কল রিসিভ করেননি।