Bangladesh News Network

নির্মাণকাজ শেষের আগেই সেতু ধসে নিখোঁজ তিন শ্রমিক

0 2,723

তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল পটিয়ার কালারপোল সেতু।

নির্মাণকাজ শেষের আগেই ধসে পড়ল চট্টগ্রামের পটিয়ার কালারপোল সেতু। তবে এখনও তিনজন শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানা গেছে।

তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধ্বসে পড়ল পটিয়ার কালারপোল সেতু।

শুক্রবার (২৫ জুন) রাত ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন সেতুটির তিনটি গার্ডার ধসে পড়ে। এসময় নির্মাণ কাজের ৩ শ্রমিক নিখোঁজ হন।

সেতুটি ধসে পড়ার পেছনে ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, একটি সেতুর জন্য ১৩ বছর ধরে কয়েক লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে সওজের দাবি, কোনো অনিয়ম হয়নি।

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, ‘হাইড্রোলিক জ্যাকের (ক্রেন) মাধ্যমে গার্ডার বসানোর সময় জ্যাকের পাইপ ফেটে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, যার ফলে গার্ডার পড়ে যায়।

তিনি বলেন, একটি গার্ডার থেকে আরেকটি গার্ডারের দূরত্ব দুই মিটার। যে কারণে একটির ধাক্কায় আরেকটি এভাবে তিনটি গার্ডার পড়ে যায়। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। এতে ঠিকাদারের ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে দাবি এই প্রকৌশলীর।

তিনি আরও জানান, এটি আসলে দুর্ঘটনা। সেতুটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ করে একটি দুর্ঘটনায় সেতুটি ধসে পড়েছে।

কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মুহাম্মদ সোলায়মান জানিয়েছেন, ‘কয়জন নিখোঁজ রয়েছে তা এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে দুইজন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির তিনটি গার্ডার ধসে নদীর পানির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘটনাস্থলে কথা হয় স্থানীয় কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন ও শিকলবাহা ইউনিয়নের মাষ্টারহাটের বাসিন্দা আলমগীরের সঙ্গে।

তারা জানান, ‘রাত ৮ টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। পরে আমরা গিয়ে দেখতে পায় গার্ডার ভেঙে নদীর তলদেশে মিশে যায়। ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুটি ধসে পড়েছে। এতে সেতু নির্মাণ কাজের ৩ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।

দোহাজারী সওজ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুনভাবে সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমবার ২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কিছুদিন কাজ করে।

একসময় কাজ চলাকালীন কাজ বন্ধ করে চলে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে সেতুর জন্য ২০১৭ সালে এটি ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নতুনভাবে বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: