নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনী দুঃস্থ মানুষদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন

0
142

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে লকডাউন বাস্তবায়নে নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুঃস্থ মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু করেছেন সেনাবাহিনী। রোববার (১৯ এপ্রিল) সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের লামাপাড়া এলাকা থেকে এই সেবা কার্যক্রম শুরু করেন তারা।

সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষকে ঘরে রাখার ব্যাপারে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের খাদ্য সংকট দূর করতেই সেনাবাহিনীর এই প্রচেষ্টা।

তারা জানান, আইইডিসিআর নারায়ণগঞ্জকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করলে গত ২৪ মার্চ থেকেই জেলায় মাঠে নামে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল রাতে পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হলে সেনা কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়। টহল কার্যক্রমসহ করোনার ভয়াবহতার ব্যাপারে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বিতরণও করেন তারা। তবে লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী মানুষের খাদ্য সংকটের বিষয়টি উপলব্ধি করে হতদরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেন।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, সমপরিমাণ তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর একটি করে প্যাকেট তুলে দেন কর্মহীন অসহায় পরিবারের মানুষগুলোর হাতে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ যার যার ঘরে থাকতে অনুরোধও করেন সেনা কর্মকর্তারা।

সেনাবাহিনীর এই কাজে সহযোগিতা করেন কুতুব পুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুসহ এলাকার কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।

এদিকে এ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোন ভাবেই কোন ধরণের সহযোগিতা না পেয়ে অনাহারে ও হতাশায় জীবনযাপন করছিলেন কুতুবপুর এলাকার নিম্ন শ্রেণীর পরিবারগুলো। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো তারা সহায়তা পেলেন। এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে অনেকটা স্বস্তি পেয়ে দুঃশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার কথা জানান অসহায় মানুষগুলো।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৫ এম.এল.আর.এস এর ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর আহসান উজ্জামান জানান, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোন কোন এলাকায় ত্রাণ বা খাদ্য সহযোগিতা পৌঁছায়নি সে বিষয়ে তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং তথ্য সংগ্রহ করছেন। সেই আলোকে সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে কুতুবপুর এলাকার একেবারেই নিম্নশ্রেণীর মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী নিজেরাই পৌঁছে দিয়েছেন। এতে করে একেকটি পরিবারের অন্তত পনের থেকে বিশ দিনের খাবারের চাহিদা পূরণ হবে বলে তিনি মনে করেন।

পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোতেও দুঃস্থদের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।