নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতন এবং ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ

0
100

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে শহরের চাষাঢ়ায় এবং ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লায় বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ’ শ্রমজীবী মানুষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে একই দিন বিকেলে চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ করেন তারা।

জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। এমন পরিস্থিতিতে কেউ পেয়েছে কেউ পায়নি সরকার প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী। ফলে, ত্রাণ বঞ্চিত, খাদ্য সঙ্কটে থাকা ফতুল্লার লাল খাঁ, কুতুবপুর, তক্কারমাঠ, রামারবাগ এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। তারা সড়কে উপর এক ঘণ্টার মত অবস্থান করলে এই পথের সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে লিংক রোডে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ছুটে আসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধদেরকে ত্রাণের আশ্বাস দিয়ে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ ত্রাণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছিল। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে কথা বলে, তাদের ত্রাণের আশ্বাস দেয়া হলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা।

অপরদিকে বিকেলের দিকে ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় ডিডিএল ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টে কয়েকশ’ শ্রমিক চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা রাস্তার উপর বসে পড়ে এবং যার চলাচলে বাধা প্রদান করে।

শ্রমিকদের দাবি, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বকেয়া বেতন এখনও দিচ্ছে না গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। এরমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাস শেষে গার্মেন্টসটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিন মাসের বেতন না পেয়ে বাসা ভাড়া দিতে না পারছেন না বলে বাড়িওয়ালাও ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে না। মুদি দোকানের মাসিক বিল দিতে না পারায় তাদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে। পেটে টান লাগলে লকডাউন কারফিউ কিছুই নয়।

অসহায় শ্রমিকরা বলেন, পেট মানে না আবার কিসের লকডাউন। বাধ্য হইয়া আমরা রাস্তায় নামছি। দরকার হইলে রাস্তায় জীবন দিয়ে দিব।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতনের আশ্বাস প্রদান করলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়ে যার যার মত করে ফিরে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।