নতুন ধরনের করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে যুক্তরাজ্য

0
103

করোনার প্রতিষেধক দেয়া যখন পুরোদমে চলছে, তথনই নতুন ধরনের করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে যুক্তরাজ্য। এই নতুন ধরনটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক।

এবারের কঠোর লকডাউন দু‌ইমাস ধরে চলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়াতেই এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে হয়েছে।

ম্যাট হ্যানকক বলেন, নতুন ধরনের করোনা সংক্রমণ খুবই দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ার আলামত পেয়ে শনিবারই বিধিনিষেধ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আশা করছি আপনারা এই সময়টা ঘরেই থাকবেন। বড়দিন পালনের জন্যও আপনারা প্রস্তুত। কিন্তু এ সময়ে আরো ভালোভাবে বিধিনিষেধ পালন করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া যাচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই নতুন ধরনের ভাইরাসকে আটকানো কঠিন। কারণ এই ভাইরাস অতি দ্রুত ছড়ায়। যুক্তরাজ্যে এখন করোনার প্রতিষেধক দেয়া চলছে। এখন আশি বছরের বেশি বয়সীদের এই প্রতিষেধক দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছিলেন যে, অন্য যে কোন ভাইরাসের মতো কভিড-নাইন্টিনও মিউটেশনের মাধ্যমে রূপ পরিবর্তন করতে পারে। দেশ, আবহাওয়া ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য অনুযায়ী করোনাভাইরাস তার বৈশিষ্ট্য এবং আচরণে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

কয়েকদিন আগে লন্ডন এবং আশে-পাশের অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটি করোনাভাইরাসের এরকমই এক নতুন পরিবর্তিত রূপ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, এটি অনেক সহজে এবং দ্রুত ছড়াচ্ছে। আগেরটির তুলনায় নতুন এই করোনাভাইরাস ছড়ানোর হার ৭০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

করোনার নতুন ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অনেক দেশই এখন ব্রিটেনের সাথে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জানা যায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর নেতারা আজ এক বৈঠকে ব্রিটেনের সাথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

স্থানীয় সময় গত রাত এগারোটা থেকে ফ্রান্স ৪৮ ঘন্টার জন্য ব্রিটেনের সাথে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ব্রিটেনের ইংলিশ চ্যানেলের তীরবর্তী ডোভারের ফেরি ও টানেল দিয়ে পার হয়ে সকল গাড়ি ও ট্রাকের ফ্রান্সে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দু-প্রান্তেই অসংখ্য গাড়ি ও ট্রাক আটকা পড়েছে।

সংক্রমণ এড়াতে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাথে ফ্লাইট বাতিল করেছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালিসহ ৬ দেশ।