নতুন করোনা ভাইরাস উচ্চহারে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে

0
69

নতুন ধরনের করোনা আতঙ্কে স্থবির ইউরোপ। অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম নতুন করোনার অস্তিত্ব মিলেছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে। নতুন ধরনের ভাইরাসটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি উচ্চহারে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে।

ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের তথ্য বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, রূপান্তরিত এই ভাইরাস শিশুদের অনেক সহজে আক্রান্ত করতে পারে। পূর্বে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার ছিল খুবই কম। কিন্তু এই নতুন ধরনের ভাইরাসে শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটিতে অন্য বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসের তুলনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার উচ্চ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যদিয়ে কিছু ভিন্নতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যদিও আমরা এর কারণ এখনও শনাক্ত করতে পারিনি, তবে তথ্য-উপাত্ত সে আভাসই দিচ্ছে।’

ফার্গুসন আরও বলেন, ‘লকডাউন চলার সময় আমরা দেখেছি ইংল্যান্ডে শিশুদেরকে আক্রান্ত করার ক্ষেত্রে ভাইরাসটি বয়সভেদে ভিন্ন আচরণ করছে।’

ব্রিটিশ সরকারের নিউ এন্ড ইমার্জিং রেস্পিরেটরি ভাইরাস থ্রেটস অ্যাডভাইজারি গ্রুপের সদস্য অধ্যাপক ওয়েন্ডি বার্কলে বলেন, ‘আমরা এমনটা বলছি না যে নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা ভাইরাসটি সুনির্দিষ্ট করে শুধু শিশুদেরকেই আক্রান্ত করছে কিংবা শিশুদেরকে আক্রান্ত করার জন্য এর সুনির্দিষ্ট কোনও সক্ষমতা রয়েছে। বরং আমরা জানতাম, কোভিড বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের কম আক্রান্ত করতে পারে।’

ওয়েন্ডি আরও বলেন, নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস মানব কোষের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হওয়ার এবং একে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রাখে। এর মানে হলো, আগে শিশুদেরকে আক্রান্ত করতে এ ভাইরাসের বেগ পেতে হলেও, এখন এটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদেরকেও সহজে আক্রান্ত করতে পারছে।

এদিকে ব্রিটিশ চিকিৎসকরা বলছেন, নতুন ধরনটি পরীক্ষায় ধরা পড়ছে না। এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত টিকা দিয়েই এটি প্রতিরোধের আশা তাদের। যুক্তরাজ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের কোভিড ছড়িয়ে পড়ছে ৭০ শতাংশ দ্রুত গতিতে।

নতুন বৈশিষ্ট্যের কোভিড সংক্রমণের ভয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে এ পর্যন্ত বিমান যোগাযোগ বন্ধ করেছে ৪০টির বেশি দেশ। কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, পর্তুগাল ছাড়াও সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ভারত ও পাকিস্তানও।

সুত্র: রয়টার্স