ধূমপায়ীদের জন্য সুখবর!

0
110

ধূমপায়ীদের জন্য সুখবর! যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করছেন, ভাবছেন এটি ছেড়ে দিলে ফুসফুসের আর কতটুকুই বা অগ্রগতি হবে, আধুনিক গবেষণার ফলাফল তাদের স্বস্তি দেবে। ধূমপায়ীর ফুসফুসেরও সুস্থ পরিস্থিতিতে যাওয়ার ‘জাদুকরী’ ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে শুধুমাত্র ধূমপান ছাড়ার পরই ফুসফুসের সেই ক্ষমতা কাজ করে।

বিবিসির বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধূমপানের কারণে ফুসফুসের যেসব পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা তৈরি করে, সেসব পরিবর্তনকে স্থায়ী মনে করা হতো এবং ধারণা করা হতো যে ধূমপান ছাড়ার পরও সেসব পরিবর্তন টিকে থাকবে, তা ঠিক নয়। নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়া ফুসফুসের কয়েকটি কোষই পরবর্তীতে ফুসফুসকে আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে ভূমিকা রাখে।

টানা ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার পর যারা ধূমপান ছেড়েছেন, তাদের ফুসফুসের ক্ষেত্রেও এই বিষয় দেখা গেছে। সিগারেটে থাকা হাজার ধরনের রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ডিএনএকে পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে সুস্থ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে পরিবর্তন করে।

ধূমপায়ীদের শ্বাসনালী থেকে নেয়া কোষের অধিকাংশই ধূমপানের ফলে পরিবর্তিত হয়েছে বলে দেখা গেছে। কোনো কোনো কোষে ১০ হাজার পর্যন্ত জিনগত পরিবর্তনও লক্ষ করা গেছে। ধূমপানের কারণে হওয়া জিনগত পরিবর্তন ঐ কোষগুলো কীভাবে এড়িয়ে গেলো, তা পরিস্কার নয়।

কেউ যখন ধূমপান ছেড়ে দেয়, তখন ঐ অপরিবর্তিত কোষগুলো সংখ্যায় বাড়তে থাকে এবং ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলোকে প্রতিস্থাপিত করতে থাকে। গবেষণা বলছে, যেসব মানুষ ধূমপান ত্যাগ করে, তাদের ৪০% পর্যন্ত কোষের গঠন কখনো ধূমপান না করা মানুষের কোষের গঠনের মত হয়ে যায়।

গবেষণায় নিযুক্ত থাকা স্যাঙ্গার ইন্সটিটিউটের ডক্টর পিটার ক্যাম্পবেল বিবিসিকে বলেন, আমরা এই অবিষ্কারের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। কিছু কোষ থাকে যেগুলো, অনেকটা জাদুকরীভাবেই, শ্বাসনালীর প্রান্তগুলোকে পুনর্গঠণ করে।

যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার রিসার্চ কেন্দ্রের ডক্টর রাচেল ওরিট জানান, ধূমপান ছাড়লে সুফল আসলে দ্বিগুণ, এটি খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বিষয়। প্রথমত, ফুসফুসের কোষে ধূমপান সংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে, এবং দ্বিতীয়ত ফুসফুস নিজেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুস্থ কোষ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কোষের প্রতিস্থাপন শুরু করবে।

অতএব আর দেরি কেনো? ধূমপান ছেড়ে দিন।