ধানেরই দাম কম, পাটের দর নিয়ে শঙ্কায় বগুড়ার কৃষক

0
164

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেস্কঃ

গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবারও ভাল দামে পাট বিক্রি করবেন, এমন আশায় ছিলেন বগুড়া কৃষক। তবে করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে ধানেরই দাম নেই, সেখানে পাট চাষীরা আছেন দর নিয়ে অনিশ্চিয়তায়।

তবু বগুড়ার পাট চাষিরা এই সময় ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারণ গত বছরও তারা ২০০০ টাকা মনদরে পাট বিক্রি করছেন।

জেলার গাবতলী উপজেলার কৃষক সালাম জানান, গত বছর পাট চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাই এবারও তিনি দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। করোনা কারণে তাদর উৎপাদন থেমে নেই, তবে ফসল চাষে শারীরিক দূরুত্ব মেনে চলা সম্ভব হয় না।

গত বছর পাট চাষীরা ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন। গত বছর কৃষকরা বিঘাতে ১২/১৩ মন পাট পেয়েছে। সার বীজ, কীটনাশক মিলিয়ে বিঘাতে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আবহাওয়া ভাল থাকলে বিঘাতে উৎপাদন হয় ১১/১২ বেল । অর্থাৎ ১০ থেকে ১২ মন পাট উৎপাদন হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাসেম আজাদ জানান, কৃষকরা করোনার ভয় উপেক্ষো করে পাটসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছে। এবার কৃষকরা ফাল্গুন মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত পাট বীজ বপন করবে। তারা এই ফসল তুলবে আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে।

জেলায় এ বছর ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যা থেকে ১ লাখ ৫২ হাজার বেল পাট উৎপাদন হওয়ার আশাবাদ কৃষি বিভাগের। বগুড়া জেলার পূর্বাঞ্চল সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট ও গাবতলী উপজেলা পাট চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। বগুড়ায় উৎপাদিত জেলার ২২ টি জুট মিলের পাটের চাহিদা মিটিয়ে পাট চীন ও ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে বলে জানান জেলার বগুড়া ভান্ডার জুট মিলের স্বত্বাধীকারি তোফাজ্জল হোসেন।

তিনি আরো জানান, জেলার ২২ টি জুট মিলে গড়ে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২ হাজার মণ প্রয়োজন পড়ে। তবে দেশের পাট বিদেশে রপ্তানি করায় জেলার ২২টি জুট মিলকে পাট সংকটে পড়তে হয়। বাংলাদেশ থেকে পাটের বদলে পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে পাটের বস্তা ও সুতলী বিদেশে রপ্তানি করলে একদিকে যেমন দেশের পাটকলগুলো লাভবান হতো, সরকার আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো।