দ্বিধা বিভক্তির মধ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ড. কামাল হোসেন

0
43

দলীয় কোন্দল ও দ্বিধা বিভক্তির মধ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। শনিবার দুপুর ১২টায় বেইলি রোডে তার নিজ বাসায় তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করবেন। শুক্রবার গণফোরাম নেতা লতিফুল বারী হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, শনিবার ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় গণফোরামের দুই অংশের যৌথ বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কামাল হোসেন। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা শেষে আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দেবেন দল প্রধান।

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গণফোরামের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। ঘোষণা এসেছে আলাদা কাউন্সিলের। অবশেষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা কামাল হোসেন উভয়পক্ষকে এক করতে সমর্থ হয়েছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে উভয়পক্ষের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

গত রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দলের মধ্যে এযাবৎ যেসব বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কার হয়েছে, তা এখন থেকে অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। চলমান সমস্যার সমাধানে জাতীয় কাউন্সিল হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের স্বাক্ষরে তাঁর সচিব শাহজাহানের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি গণফোরামের অভ্যন্তরে ভুল বোঝাবুঝিরকারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানকল্পে সকল সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে দলের অভ্যন্তরে যে বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কার হয়েছে, তা অকার্যকর বলে গণ্য হবে’।

২০১৯ সালে ২৬ এপ্রিল গণফোরামের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। সেখানে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলে যোগ দেয়া রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সে কাউন্সিলের পর থেকেই গণফোরামে দ্বন্দ শুরু হয়। দলে বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কার চলে। ২৭ বছরেরমুখে প্রথমবারেরমতো ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে একটি সভা হয়। সেখান থেকে ২৬ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেয় গণফোরামের এই অংশ। তারা সেদিন সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র অমান্য করে সংগঠনের ঐক্য ও স্বার্থবিরোধী কর্মকা-ের জন্য গণফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সদস্য মোহসিন রশিদ, আওমশফিকউল্লাহএবং মোশতাক আহমেদকে বহিষ্কার করে।

এ ছাড়া ১৭ অক্টোবর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও গঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে শোকজ নোটিশের জবাব না দেয়ায় গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশ মন্টু, সুব্রতসহ আটজনকে বহিষ্কার করেএবং ১২ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেয়।

বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কারেরমধ্যেই দুই পক্ষ এক হওয়ার গুঞ্জন শোনা যায় এবং গত ১১ নবেম্বর রেজা কিবরিয়া এক বিবৃতিতেতাঁদের কাউন্সিল স্থগিতের কথা জানান।ইতোমধ্যে মন্টু পক্ষও কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়াবে শোনা যাচ্ছে। সংকট সমাধানে উভয়পক্ষ পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে। সূত্রমতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সবাইকে নিয়ে কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করার কথা কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে। আরা কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনেরমধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার চিন্তা করছেন কামাল হোসেন। দল প্রধানের একাধিক ঘনিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী জানুয়ারি মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখ গণফোরামের কাউন্সিল হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।