দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

0
155

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, আজকের বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়। এ দেশে যে কোনো মূল্যে এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প আয়োজিত গোপালগঞ্জ জেলার আন্তঃধর্মীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের পৃথিবীতে যে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যত বেশি নিরাপদ ও ভালো অবস্থায় আছে সে দেশকে ততটা সভ্য ও উন্নত দেশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর কল্যাণ ও নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আমরা একটি সভ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় এক শান্তিপ্রিয় দেশ। দেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন, বিধিবিধান স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে প্রতিপালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মানুষ ধর্মভীরু বা ধর্মের প্রতি সংবেদনশীল। জনগণের ধর্মের প্রতি এই আবেগ-অনুভূতিকে ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি অপশক্তির মদদে গোষ্ঠীবিশেষ দেশকে নিয়ে সর্বদা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে, শান্তির বার্তা শোনায়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিষয়টি কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। প্রত্যেক ধর্মের অনুসারির নিকট তার ধর্ম শ্রেষ্ঠ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র বিষয়। এ ছাড়া প্রতিটি ধর্মের মূল বিষয়গুলোতে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। সে সাদৃশ্যসমূহকে অবলম্বন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি ঘৃণ্য বিষয়। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। সবার সহযোগিতায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী কথা বললে সমাজে তার ইতিবাচক সুফল পাওয়া যাবে।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল্লাহ আল শাহিন, গোপালগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।