দেশে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ৬৬০ জন করোনা আক্রান্ত : বিএমএ’র ৩ প্রস্তাবনা

0
198

দেশে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ৬৬০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যা দেশের মোট আক্রান্তের শতকরা ১১ ভাগ। এদের মধ্যে ২৯৫ জন চিকিৎসক, ১১৬ জন নার্স ও ২৪৯ জন বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিএমএ।

সোমবার বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারের প্রতি ৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবনাসমূহ হলো:

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড হাসপাতালে নিয়ােজিত চিকিৎসক, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সঠিক মানের পিপিই, এন- ৯৫ বা এর সমমানের মাস্ক প্রদান করা জরুরি।

২. নন কোভিড হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে ট্রায়াজ সিস্টেম চালু করে সেখানে কর্মরত সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের উপযুক্ত পিপিই, এন-৯৫ বা সমমানের মাস্ক প্রদান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

৩. সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, প্রয়ােজনীয় খাদ্য সরবরাহ হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে যমুনা নিউজকে বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, করােনা যুদ্ধের সম্মুখ সারির যােদ্ধা চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনােলজিস্টসহ সেবাদানকারীগণ আশঙ্কাজনকভাবে করােনায় আক্রাভ হচ্ছেন। চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা দানকারী ব্যক্তিগণ এই হারে আক্রান্ত হতে থাকলে আগামীতে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত পিপিই আছে এমনটা দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনেক কিছুই শুনি। কিন্তু বাস্তবতার সাথে এর মিল নেই। তারা যে সংখ্যক পিপিই’র কথা বলছেন সে সংখ্যক হয়তো তাদের গোডাউনে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্র্যাকের জরিপে উঠে এসেছে ২৫ ভাগ চিকিৎসক পিপিই পাননি, এবং ৪০ ভাগ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী পিপিই পাননি। তারা যে পরিমাণ পিপিইর কথা বলছেন সেটি হলে তো এই সংকট থাকতো না। একইসাথে স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা,খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্যাও রয়ে গেছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হওয়া দরকার।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রীর দুরদর্শিতা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ৩৯-তম বিসিএসের নন ক্যাডারের তালিকায় থাকা ডাক্তার ও বিএসএমএমইউতে নিয়োগের অপেক্ষমান তালিকায় থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে থেকেই নিয়োগ হওয়া উচিত।