Bangladesh News Network

দেশে করোনায় টানা ছয় দিন শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড

0 3,288

দেশে একদিনে করোনায় ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রেকর্ড ১৪৩ জনের মৃত্যুর পর এটাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গত ২৭ জুন ২৪ ঘণ্টায় ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ছাড়াও টানা ছয় দিন শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ডও হলো। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজার ৭৭৮ জন।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৩ জন। গতকালও শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩০১ জন। টানা তৃতীয় দিনের মতো ২৪ ঘণ্টায় আট হাজারের বেশি শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট শনাক্তরে সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জন। বৃহস্পতিবার সারা দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি, তাতে শনাক্তের হার বেড়ে ২৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

কেবল ঢাকা বিভাগেই গত এক দিনে ৩৮৪১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৪৫ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম আর খুলনাতেও হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত এক দিনে কেবল খুলনা বিভাগেই মারা গেছেন ৩৫ জন; ঢাকা বিভাগে ৩০ জনের প্রাণ নিয়েছে এ ভাইরাস।

এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু ও দুইবার শনাক্তের রেকর্ড ভাঙা দেখল দেশ। কঠোর লকডাউনে যাওয়া কত জরুরি ছিলে, তা শনাক্ত ও মৃত্যু এই পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে।

গত এপ্রিলের রেকর্ড ভেঙে ২৭ জুন এক দিনে ১১৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তার চার দিনের মাথায় ১ জুলাই ১৪৩ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়। পরদিনই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩২ জনের মৃত্যু দেখল বাংলাদেশ।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫০৯ জন। যা নিয়ে মোট সুস্থ ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৩৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সেখানে কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে রোগী শনাক্ত ২০ শতাংশের বেশি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জেলা করোনার ভয়াবহতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৪ থেকে ২০ জুন নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তের হার বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাপ্তাহিক রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।


বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম মৃত্যুর আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ অগাস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা।

এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটলে গত ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে মাত্র দশ দিন সময় নেয় করোনাভাইরাস; মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল।

তার ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার এক মাস পর ১১ জুন তা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছিল। এর ১৫ দিন পর ২৬ জুন এই সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

দিনে মৃত্যুর রেকর্ডও হয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে। ১৯ এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ২৭ জুন মৃত্যু হয় ১১৯ জনের। ২৯ জুন আবার ১১২ জনের মৃত্যু হয়। ৩০ জুন মারা যান ১১৫ জন। ১ জুলাই মৃত্যু হয় রেকর্ড ১৪৩ জনের।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: