দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো সাতজনের মৃত্যু

0
92

করোনার উপসর্গ নিয়ে দেশে আরো সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ, সিলেট, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ ও ফরিদপুর জেলায় ওই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ২২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৬৩ জনের মৃত্যু হলো করোনার উপসর্গ নিয়ে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা—

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাশপুর এলাকায় সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত ওই ব্যক্তি সাত দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গতকাল শনিবার ভোরে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।

ডা. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘আমরা মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টায় তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি জেলার কানাইঘাট উপজেলায়। শুক্রবার রাতে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুশান্ত কুমার মহাপাত্র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার করোনা সন্দেহে তাঁকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে তাঁকে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল সকালে তিনি মারা যান। মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল।

পাতলা পায়খানা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার এক ঘণ্টার মাথায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবিনা ইয়াসমিন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টার পর পাতলা পায়খানার রোগী হিসেবে তাঁকে ভর্তি করে সাধারণ বেডে রাখা হয়েছিল। তাঁর শ্বাসকষ্টের কথা পরে জানা গেছে। মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে গতকাল সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানান হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এ বি এম আলী হাসান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মীরা তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় জানান, ছয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূ রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর জানতে পারেন তাঁর জরায়ুতে বাচ্চা না হয়ে ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যে হয়েছে। একপর্যায়ে তা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করেন। গত শুক্রবার সকালে তাঁর জ্বরসহ করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাঁর আরো কয়েকটি পরীক্ষা করানো হয়। রাতেই তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের নখলা গ্রামে গতকাল করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির (৫০) মৃত্যু হয়েছে। সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাফি উদ্দিন শাহ জানান, মৃত ব্যক্তি দুই দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না তা পরীক্ষা করা হলেই জানা যাবে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় গতকাল ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। তাঁর বাড়ি ভাজনকান্দা গ্রামে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ হোসেন জানান, ওই ব্যক্তি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। তাঁর শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দাফন করে বিপাকে স্কাউট সদস্যরা : নওগাঁয় করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকাফেরত এক ব্যক্তির (৬২) মরদেহ দাফন করে বেকায়দায় পড়েছে চারজন রোভার স্কাউট সদস্য। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ছাড়াই গত শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না তাদের। এলাকাবাসীর দাবি, সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ওই ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনা জানতে পেরে স্কাউট সদস্যদের নিরাপদে একটি ঘরে রাখা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্কাউট সদস্য ফরিদ বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তাদের সচেতন করি আমরা চারজন। দুপুরের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুজন লোক আসেন। তাঁরা লাশের কাছে যেতে ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন। এরপর লাশ জীবাণুমুক্ত করেন। তাঁদের কথায় আমরা লাশ ঘর থেকে বের করে দিই। তাঁরা গোসল শেষে কাফন পরিয়ে চলে যান। অ্যামু্বল্যান্স এলে লাশ উঠানোর কেউ ছিল না। বাধ্য হয়ে আমরা লাশ গাড়িতে উঠিয়ে দিই এবং গাড়ির পেছন পেছন কবরস্থানে যাই। জানাজা শেষে কবরস্থানে মৃতদেহ রেখে ইফার লোকজন বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন।