দেশের ৮০ ভাগ মানুষ করোনার ভ্যাকসিন পাবেন

0
61

দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (আইএমএস) ডা. মো. হাবিবুর রহমান। জার্মানিভিত্তিক ডয়েচেভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ধাপে ধাপে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার।

চলতি মাসেই পাওয়া যেতে পারে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন। প্রথমে ৫০ লাখ টিকা আসবে যা দুই ডোজ করে ২৫ লাখ মানুষকে দেয়া যাবে।

ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ভ্যাকসিন আনার চুক্তি হয়েছে। এটা দেড় কোটি মানুষকে দেয়া যাবে। তাছাড়া গ্যাভির যে কনসোর্টিয়াম কোভ্যাক্স তাদের সাথেও আমরা কথা বলেছি। সেখান থেকে আমাদের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ২০ ভাগের জন্য ভ্যাকসিন পাব। তাতে প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। তার সংখ্যা হবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ। এর বাইরেও আমরা বিভিন্ন দেশের সাথে কথা বলছি। আমরা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৮০ ভাগকে ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা করছি। বাকি ২০ ভাগের হার্ড ইমিউনিটি হয়। তাই দেশের সব মানুষকেই ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা আমাদের আছে। পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

সেরাম ইনস্টিটিউট প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেবে বলে জানান তিনি। সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রতিডোজ ভ্যাকসিনের জন্য দাম পড়ছে ৪ ডলার। এরসঙ্গে পরিবহন খরচ প্রতি ডোজ ১ ডলার। সব মিলিয়ে ৫ ডলার। আর কোভেক্স থেকে যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে তা স্বল্পমূল্যে বা কিছু বিনামূল্যে পাওয়া যাবে বলে জানান ডা. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, যেটা স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে তার প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১.৬০ থেকে ২ ডলার।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও সব দেশের দেশের ভ্যাকসিন আনছে না বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, আমরা সব দেশের ভ্যাকসিন আনছি না। যেমন- মর্ডানা, ফাইজার তাদের ভ্যাকসিন মাইনাস ২০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। সেই ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। সেজন্য আমরা যেসব দেশের ভ্যাকসিন মাইনাস ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রায় সংরক্ষণ করা যায় তা আনার চেষ্টা করছি। কারণ আমাদের এখানে যে ইপিআই সিস্টেম আছে তাতে আমরা এই ধরনের ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে পারব।

ফ্রন্ট লাইনার এবং ষাটোর্ধরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাবেন। অগ্রাধিকারের বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভ্যাকসিন পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। তবে পর্যায়ক্রমে সবাইকেই টিকা দেয়া হবে জানিয়ে ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এখন যেহেতু সব টিকা এক সঙ্গে পাচ্ছি না। ফেস বাই ফেস আসছে। আবার সবাইকে একসঙ্গে টিকা দেয়া সম্ভবও না। তাই যারা সবচেয়ে বেশি করোনা ঝুঁকিতে আছেন তাদেরকেই আগে রক্ষা করতে চাই। তারপর পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন।