দুঃসময়ে কৃষি উৎপাদন জোরদার করতে ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী

0
99

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের খাদ্য সঙ্কট না হয়, সেজন্য আমাদের একখণ্ড জমিও ফেলে রাখা চলবে না। উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার জন্য কৃষি খাতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য কৃষি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের ঘাটতি যাতে না হয় এবং সময়মত কৃষকের হাতে পৌঁছে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

‘কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য চলতি মওসুমে গত বছরের চেয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান ক্রয় করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল হতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের কৃষি, মৎস্য, ডেইরি এবং পোল্ট্রি খাতে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ প্রদান করা হবে।

‘করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে।এ মুহূর্তে আমাদের কোন খাদ্য সঙ্কট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে গত মওসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মওসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। তবে, এসব ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা বিচ্ছিন্নভাবে না বিলিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে শৃঙ্খলার সঙ্গে বিতরণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যাবে। আমি বিত্তবানদের এই সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাবস্থায় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।’