Bangladesh News Network

দিলীপ-মধুবালার প্রেম কাহিনী নানা আলো-আঁধারিতে মেশা

0 4,362

বর্ণময় ছিল তার জীবন। ভারতীয় সিনেমার প্রথম ‘স্টার’ তিনি। তার জীবনটাও যেন সিনেমার পর্দা থেকেই উঠে এসেছে। দিলীপ কুমার চলে গেলেও রেখে গেলেন একটা সাম্রাজ্য। ফেলে গেলেন স্বপ্নীল দুনিয়ার হাজারো গল্প। সেই রামধনু সুতো ধরে টানলেই সেখানে দেখা মিলবে প্রেম, বন্ধুত্ব, দাম্পত্য, গুজব, সম্পর্কের একাধিক রসায়নের হিসেবনিকেশের।

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে এ অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

দিলীপ কুমারের প্রেম কাহিনী নানা আলো-আঁধারিতে মেশা। হাতছানি, প্রলোভন, সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, প্রেম, প্রণয়- সবই ছিল সেই অধ্যায়ে। ১৯৪৮ সালে মুক্তি পায় দিলীপ কুমার আর কামিনী কৌশল অভিনীত ‘শহিদ’। সেই থেকে কামিনীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক শুরু দিলীপের।

ইন্ডাস্ট্রির সর্বত্র যখন দিলীপ-কামিনীর প্রেম নিয়ে জোর চর্চা, এমনকি বিয়ের কথাও প্রায় ঠিক, সে সময়ই বেঁকে বসেন কামিনীর দাদা। তিনি রাজি ছিলেন না এই সম্পর্কে। এর অনতিকাল পরেই দুর্ঘটনায় নিহত নিজের দিদির স্বামী, অর্থাৎ জামাইবাবুকে বিয়ে করেন কামিনী। দিদির দুই সন্তানের দায়ভার তুলে নেন নিজের কাঁধে।

এরপর শুরু সেই বিখ্যাত প্রেম কাহিনী। দিলীপ কুমার-মধুবালা। ‘মুঘল-ই-আজম’-এর রোম্যান্টিক নায়ক-নায়িকা তখন পর্দা ছাড়িয়ে বাস্তবেও সমান জনপ্রিয়। সাত বছর সেই সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বাড়ির সঙ্গে ঝামেলা ও ইগো-সমস্যায় ভেঙে যায় সেই বহুল চর্চিত প্রেমও।

পাঁচ বছর প্রেমের পর দিলীপ কুমার দুটো শর্ত দিয়েছিলেন মধুবালাকে। প্রথমত, নিজের পরিবার ছাড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাড়তে হবে অভিনয়ও। বলিউড ছাড়তে রাজি হলেও নিজের মা-বাবাকে ছাড়তে নারাজ ছিলেন মধুবালা। এরপরই দিলীপ কুমার-মধুবালার সম্পর্ক ভেঙে যায়।

এ ঘটনার দিলীপ ও মধুবালার সম্পর্ক এতটাই কঠিন হয়ে পড়ে যে মুঘল ই আযম সিনেমায় অভিনয়ের সময় তারা একে অপরের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতেন না।

নিজের আত্মজীবনীতে দিলীপ কুমার স্বীকার করেন যে অভিনেত্রী ও নারী হিসেবে মধুবালা তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘মধুবালা ছিলেন প্রাণবন্ত ও তৎপর। তিনি কারো সঙ্গে কথা বলতে সংকোচবোধ করতেন না। যে সমস্যাটা আমার ছিল’।

পরে নিজের থেকে ২২ বছরের ছোট সায়রা বানুকে বেগম করেন দিলীপ। সায়রা বানু ছোট থেকে দিলীপ কুমারের ভক্ত ছিলেন। তাকে বিয়ে করতে চাইতেন মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে। স্বপ্নের নায়ককে বাস্তবেও স্বামী হিসেবে পাওয়া তার জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি, এ কথা বারবার স্বীকার করেছেন সায়রা।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: