ঢাকা থেকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে পালিয়ে আসা কিশোরের বাড়ি লকডাউন

0
136

ঢাকার জাতীয় হ্নদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে পালিয়ে আসা তেরো বছর বয়সী কিশোর ও তার পরিবারের সন্ধান পেয়েছে বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জেলার সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে তাদের সন্ধান পায় স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই বাড়িটি লকডাউন করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। করোনা আক্রান্ত কিশোরকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কিশোরসহ ওই বাড়ির ১৪ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদের বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ওই কিশোরের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তার সংষ্পর্শে আসা ঢাকার জাতীয় হ্নদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত ১৯ জন চিকিৎসক ও ৩৩ জন নার্সকে কর্তৃপক্ষ কোয়ান্টিনে নিয়েছে বলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, গত ১৩ এপ্রিল বাগেরহাট থেকে এক ব্যক্তি হ্নদরোগের চিকিৎসা করাতে তার কিশোর ছেলেকে নিয়ে জাতীয় হ্নদরোগ ইনষ্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ছয়দিন পর ১৯ এপ্রিল ওই কিশোরের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠায়। আইইডিসিআরে রিপোর্ট আসার আগেই গত ২৬ এপ্রিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওই কিশোরকে নিয়ে তার পরিবার পালিয়ে বাগেরহাটে চলে আসেন।

মঙ্গলবার আইইডিসিআরের পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়। করোনা পজেটিভের কথা ফোন করে ওই কিশোরের বাবাকে জানালে তারা কোথায় আছেন তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। বুধবার সকালে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান পেয়ে সেখানে গিয়ে করোনা আক্রান্ত কিশোরের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।

কিশোরটি সুস্থ্য স্বাভাবিক রয়েছে। তার চিকিৎসা বাড়ি রেখেই দেয়া হবে। তার সংষ্পর্শে আসা পরিবারের ১৩ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। ওই কিশোরসহ পরিবারের নারী পুরুষ মিলিয়ে ১৪ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

আশেপাশে আর কোন বাড়ি না থাকায় ওই বাড়িটি অবরুদ্ধ করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।