Bangladesh News Network

ঢাকার সঙ্গে দেশের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

0 5,479

ঢাকার সঙ্গে দেশের সাত জেলার দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সোমবার (২১ জুন) প্রতিষ্ঠানটির নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চও জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ কোনও লঞ্চঘাটে ভিড়তে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে করোনা পরিস্থিতি সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সাতটি জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক কার্যাবলী (জনসাধারণের চলাচলসহ) আগামী ২২ জুন সকাল ৬টা হতে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত জেলাগুলোর নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

নৌপথগুলো হচ্ছে- ঢাকা-মাদারীপুর, ঢাকা-মিরকাদিম/ মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ/ চাঁদপুর/ নড়িয়া, শিমুলিয়া (মুন্সীগঞ্জ)- বাংলাবাজার (মাদারীপুর) / মাঝিকান্দি (শরিয়তপুর), আরিচা (মানিকগঞ্জ)-কাজিরহাট, পাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী)। এই নৌপথসহ উল্লেখিত জেলার সংশ্লিষ্ট নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযানের (লঞ্চ/ স্পিডবোট/ ট্রলার/ অন্যান্য) বন্ধ থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, এ নির্দেশনার আলোকে উল্লেখিত জেলাগুলোর লঞ্চঘাট ব্যতীত দেশের যে কোনও স্থান হতে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী নৌযানগুলো পথিমধ্যে মাদারীপুর, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মিরকাদিম লঞ্চঘাটগুলোতে ছাড়া বা ভিড়া করতে পারবে না। পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

এর আগে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাত জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) ঘোষণা করেছে সরকার। এ সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণার কারণে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে বাস মালিক সমিতি।

এছাড়া লকডাউন চলাকালে এই সাত জেলার অন্তর্গত কোনো জায়গায় ট্রেনও থামবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

সময় সংবাদকে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের গন্তব্যে যেতে যদি কোনো লকডাউন এলাকা পড়ে সেখানে ট্রেন থামবে না, যাত্রী উঠাবে না, নামাবেও না। লকডাউন এলাকা ক্রস করে ট্রেন গন্তব্যে যাবে।

অন্যদিকে লকডাউনের মধ্যে সাত জেলায় নৌযান চলাচল করবে কিনা সে বিষয়ে কথা বলেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক।

সোমবার (২১ জুন) সময় সংবাদকে তিনি জানান, লকডাউন ঘোষণা করা সাত জেলায় সব যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুন) থেকে বন্ধ থাকবে। আরিচা ও মাওয়া ঘাটের লঞ্চ ও স্পিডবোটও বন্ধ থাকবে, ফেরিতে শুধুমাত্র মালবাহী গাড়ি পারাপার হতে পারবে।

এদিন বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলাসমূহে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচল মঙ্গলবার (২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এ সময়ে শুধু আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জরুরি বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ সাত জেলায় মালবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এর বাইরে আরও কোনো জেলা যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে জেলা প্রশাসন লকডাউন দিতে পারবে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি বিস্তাররোধে দেশে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: