Bangladesh News Network

ডেনমার্ক ২৯ বছর পর ইউরোর সেমিতে

0 4,374

২৯ বছর পর ইউরোর সেমিফাইনালে ডেনমার্ক। কোয়ার্টার ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। নিজের মাথা ফাটিয়েও দলের শেষ রক্ষা করতে পারলেন না সৌচেক। শেষ হাসি হাসলো ডিলেইনি-ডলবার্গরা। আজারবাইজানের বাকু স্টেডিয়াম এরিক ক্রিশ্চিয়ানময়। সতীর্থের মন্ত্রে উজ্জীবিত ডেনমার্ক। এদিনও দলে কোন পরিবর্তন ছিলো না।

অন্যদিকে ইউরোতে ডেনিশদের সঙ্গে কখনই না হারা চেক রিপাবলিক অদম্য শিলাভির পরিকল্পনায়। এক পরিবর্তন সেটাও অবধারিত। কারণ, নিষেধাজ্ঞা শেষ করেছেন বরিল। ম্যাচের কিক অফ থেকেই আক্রমণাত্মক দু’দল। কিন্তু ডেনিশ ডিফেন্স অভেদ্য। প্রতি ম্যাচে অন টার্গেটে গড়ে ১৯টা শট নেয়া ডেনমার্ক গুছিয়ে নিতে সময় নেয়নি একেবারেই।

৫ মিনিটেই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে বাকুকে আনন্দে ভাসান ডিলাইনি। এক শূন্যতে এগিয়ে ডেনমার্ক। গোল খেয়ে অবশ্য ব্যাকফুটে যায়নি চেক প্রজাতন্ত্র।

আক্রমণ শানায় তারাও। কিন্তু এবারও ব্যর্থ ডিফেন্স লাইনে। পালটা আক্রমণে গোলরক্ষককে একা পেয়েও জাল খুঁজে পাননি বার্থডে বয় ডেমসগার্ড। গোললাইন থেকে চেকদের বাঁচিয়ে দেন কৌফাল। আর নিজের ভুলে জোড়া গোলের সুযোগ মিস করেন ডিলাইনি। ২১ মিনিটে অবশ্য ডেনিশ রক্ষণভাগে চিড় ধরাতে সমর্থ হয় চেক প্রজাতন্ত্র।

কিন্তু হোলসের বোকামিতে বেঁচে যায় ডেনমার্ক। এক গোল করে থমকে যাওয়া ডেনিশদের একের পর এক আক্রমণে কাঁপিয়ে দেয় চেকরা।

কিন্তু স্মাইকেল বাঁধা অতিক্রম করা হয়নি তাদের। চেষ্টা যে চেকরা করেনি তা কিন্তু নয়। কিন্তু ডেমসগার্ড-কালাসরা ছিলেন নিজেদের ছায়া হয়ে। তবে, ভাগ্য এদিন প্রসন্ন ছিলো ডেনিশদের। ৪২ মিনিটে না হলে হেড মিস করেও ডলবার্গের কিক কেনও থেকে যাবে জালের নিশানায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-০’তে এগিয়ে ডেনমার্ক।

বিরতি থেকে ফিরে আসতে না আসতেই গোল। ব্যবধান কমায় চেক রিপাবলিক। ৪৯ মিনিটে কৌফলের অ্যাসিস্টে স্কোর শিটে নাম লেখান প্যাট্রিক শিক। হয়ে যান যৌথভাবে এবারের ইউরো আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সিংহাসন ভাগ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। জয়ের তাড়নায় মরিয়া চেক, বদল আনে কৌশলে।

৪-২-৩-১ ফর্মেশনে আক্রমণের ফুলঝুড়ি ছোটায় আজারবাইজানে। কিন্তু ৬৩ মিনিটে পৌলসেনকে আটকাতে গিয়ে আহত হন সেলুস্কা। মাঠ ছেড়ে দিতে হয় তাকে। তবে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে থেকে যান সৌচেক। ৭৩ মিনিটে আরও একবার সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলো শিলহাভি বাহিনী। কিন্তু সৌচেকের মাথার বদলে স্মাইকেল হাতে লাগায় বেঁচে যায় ডেনিশরা। পালটা আক্রমণে এগিয়ে যেতে পারতো তারাও। কিন্তু পৌলসেনের কিক আটকে যায় ভ্যাস্লিকের গ্লাভসে। ম্যাচের উত্তেজনায় স্বাভাবিক খেলা নষ্ট হয় দু’দলেরই।

বডি ট্যাকলিংয়ে বারবারই বাঁধাগ্রস্ত হয় ম্যাচের টেম্পো। কিন্তু রেফারি ছিলেন খুবই কড়া। কার্ড দেখিয়েছেন ভুল হলেই। এরপর হাজার চেষ্টা করেও আর গোলের দেখা পায়নি কেউ। শেষ বাঁশি বাজতেই লাল চাদরে ছেয়ে যায় বাকু। ২৯ বছর পর ইউরোর সেমিতে জায়গা করে নেয় ডেনমার্ক।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: