Bangladesh News Network

টিকা গ্রহনকারীদের করোনায় আক্রান্তের হার কম

টিকা নেওয়া রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক

0 6,695

চট্টগ্রামে যারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড গ্রহণ করেছেন তাদের তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। আর টিকা নিয়েও যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের কাউকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে হয়নি। এমনকি আইসিইউতে নেওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দেয়নি। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।

সিভাসু জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলের ১২ হাজার ৯৩৬ ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালিয়ে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, যারা অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা নিয়েছেন তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। আক্রান্ত হলেও মৃত্যুঝুঁকি কম। দেশের সব জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের টিকার আওতায় আনা গেলে করোনা আক্রান্তের হার ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আবদুর রব বলেন, টিকা নেওয়া রোগীও আমাদের কাছে এসেছে। তবে তাদের সমস্যা অন্যদের তুলনায় বেশ কম। এই ধরনের গবেষণা আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত। তাহলে মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ বেড়ে যাবে।

সিভাসুর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম ডোজের পর যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকা নিয়ে আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ডোজের পর আক্রান্তদের ওপর তুলনামূলক এই বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায় টিকা নিলে করোনাভাইরাস মোকাবিলা সহজ হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়। অথচ প্রথম ডোজ নেওয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন এবং দুই ডোজের পর আক্রান্ত ৩ জনকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘হাসপাতালে ভর্তি টিকা না নেওয়া ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। এর মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ পাওয়া যায়। অপরদিকে টিকা নেওয়া রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক (৯৬.৭%) পাওয়া যায়।’’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “টিকা না নেওয়া সাতজনের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অপরদিকে টিকাগ্রহণকারী রোগীদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সময়কাল সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যারা টিকা গ্রহণ করেননি।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন এবং টিকা নেননি এমন রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: