Bangladesh News Network

জিততে হলে আর্জেন্টিনাকে ভাঙতে হবে ৭১ বছরের রেকর্ড

0 6,387

এই ফাইনালটা মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ট্রফি কেসে নতুন কোনো সংযোজন হয়নি ২৮ বছর। সবশেষ ১৯৯৩ সালে আলবেসেলেস্তরা জিতেছিল কোপা আমেরিকাই।

মারাকানা প্রস্তুত। আরেকটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণের জন্য। বিশ্বকাপ না হলেও, এ দ্বৈরথ যেন উত্তাপ ছড়াচ্ছে তার চেয়েও বেশি। কারণ এ লড়াইটা যে মেসির সঙ্গে নেইমারের।

মেসির জন্য আকাশি-নীল জার্সি যেন হতাশার সমার্থক। জাতীয় দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রফি জেতা হয়নি এই জাদুকরের। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনবার কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলেছেন মেসি। কিন্তু তিনবারই পরাজিত তার দল। ২০০৭ সালে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন এই ব্রাজিলেরই।

আর পরের দু’বার প্রতিপক্ষ ছিল চিলি। বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছেন মেসি। ফাইনালে কী হয়েছিল সেই ইতিহাস তার ভক্তদের অজানা নয়। ৭ বছর পর আবারও বড় মঞ্চ, মেসি ফিরছেন মারাকানায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে ব্রাজিল। যারা আর্জেন্টিনার মতোই দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। আর মারাকানায় ব্রাজিলকে হারানোটা কতটা কঠিন তা তো সবারই জানা।

ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপার শিরোপা জিতলে ভাঙবে অজস্র রেকর্ড। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রত্যাশার এতো চাপ নিয়ে তা কি পারবে লিওনেল মেসির দল। ১৯৭৫ সালের পর নিজেদের মাঠে কোপা আমেরিকার কোনো ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল। আর মারাকানায় রেকর্ডটা আরও পুরনো। শুধু দক্ষিণ আমেরিকা না বিশ্ব ফুটবলের আইকনিক স্টেডিয়ামগুলোর একটি এই মারাকানা। চীনের দুঃখ বলা হয় হোয়াংহো নদীকে। আর ব্রাজিলের মারাকানা।

ফেবারিট হিসেবে আসর শুরু করা সেলেসাওরা ১৯৫০ সালে দাপটের সঙ্গে ফাইনাল রাউন্ডে নাম লেখায়। উরুগুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সুইডেনকে ৭-১ ও স্পেনকে ৬-১ গোলে হারায় ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারতো জিজিনহো-আদেমিরদের ব্রাজিল। কিন্তু ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে উরুগুয়ে।

সেই দুঃখ ভোলার সুযোগ এসেছিল ২০১৪-তে। কিন্তু সেবার ফাইনালেই উঠতে পারেনি ব্রাজিল। কিন্তু মারাকানায় এরপর আর কোনো ফাইনাল হারের ইতিহাস নেই। ১৯৫০ বিশ্বকাপের পর যতবারই মারাকানার ফাইনালে উঠেছে সেলেসাওরা, শেষ হাসিও তাদেরই ছিল।

১৯৮৯ সালের কোপা আমেরিকা হয়েছিল ১৯৫০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটে। চার দলের ফাইনাল রাউন্ডে ব্রাজিল ছাড়াও ছিল উরুগুয়ে-আর্জেন্টিনা। বেবেতো-রোমারিওদের দাপটে পাত্তাই পায়নি বাকিরা। শিরোপা ঘরে তোলে ব্রাজিল।

২০১৩ কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালেও জয় পায় ব্রাজিল। সেবার নেইমার-ফ্রেডদের গোলে স্পেনকে উড়িয়ে দেয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল। এরপর ২০১৬ অলিম্পিকের ফুটবল ইভেন্ট আর ২০১৯ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও জয় পেয়েছে ব্রাজিল। তাই এবারের ফাইনালটাও সহজ হবে মেসিদের জন্য। কারণ কোপার শিরোপা জিততে হলে আর্জেন্টিনাকে ভাঙতে হবে ৭১ বছর পুরনো রেকর্ড।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: