চুলের সমস্যায় ভুগছেন? কারি পাতার সঠিক ব্যবহারই এর থেকে মুক্তি দিতে পারে

0
168

প্রতিটি নারীই স্বাস্থ্যকর এবং ড্যামেজ-মুক্ত চুলের স্বপ্ন দেখে। সুন্দর চুল যেকোনও নারীর সেরা সৌন্দর্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু, বর্তমান জীবনযাত্রার কারণে অতিরিক্ত চুল পড়া, খুশকি, তাড়াতাড়ি চুলে পাক ধরা ইত্যাদিসহ বেশ কয়েকটি চুলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলি পরিবেশ দূষণ, রোজকার ধুলো-বালি, সঠিক খাবার গ্রহণের অভাব বা ডায়েট, অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, ভিটামিনের অভাব, ইত্যাদির কারণে হতে পারে।

তাই, অবশ্যই চুলে বাজারের ক্যামিকেল জাতীয় পণ্য ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই, আমরা আপনাকে চুলের যত্নের জন্য প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার পরামর্শ দিই। আর, চুলের যেকোনও সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধানের একটি প্রাকৃতিক উপাদান হল ‘কারি পাতা’।

অনেকেই মাথার ত্বকের সমস্যা, খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। কারি পাতা হল এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা, চুলের মূল থেকে এই জাতীয় সমস্যাগুলির চিকিৎসা করতে পারে। কারি পাতা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, বিটা ক্যারোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ইত্যাদি সমৃদ্ধ। তাই, চুলের ক্ষেত্রে কারি পাতা ব্যবহারের উপাকারিতা সম্পর্কে এখানে দেওয়া হল –

অল্প বয়সে চুলে পাক ধরা রোধ করে:

কারি পাতা হল অন্যতম সেরা উপাদান যা, অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করে। অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া সাধারণত, সঠিক খাবার গ্রহণের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া, অ্যালকোহল গ্রহণ বা বংশগত কারণে হয়। কারি পাতায় থাকা ভিটামিন বি-এর কারণে এটি অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং চুলে পুষ্টি ও আসল রঙ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। চুলে কারি পাতা ব্যবহার, চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এবং চুল উজ্জ্বল রাখে।

চুলের বৃদ্ধি হয়:

নিয়মিত কারি পাতা ব্যবহার, চুলের বৃদ্ধি হতে সহায়তা করে। কিছু কারি পাতা সূর্যের আলোতে শুকিয়ে গুঁড়ো করুন এবং এক টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে এটি মেশান। চুলের গোড়ায় এবং চুলের শেষ প্রান্তেও পেস্টটি লাগান।

চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে:

বর্তমানে চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, চুল পড়া বন্ধ করতে আপনাকে অবশ্যই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। কারি পাতা চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুল পাতলা হওয়া রোধ করে। কিছু কারি পাতা দুধের সাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি চুলে ভালভাবে লাগান এবং এক-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত অনুসরণ করুন।

খুশকি রোধ করে:

কারি পাতায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি মাথার ত্বক স্বাস্থ্যকর রাখে। এগুলি মাথার ত্বককে খুশকি এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে, কারি পাতা ব্যবহার শুরু করুন। দইয়ের সাথে কারি পাতা মিশিয়ে পেস্ট প্রস্তুত করুন এবং এটি ভালভাবে চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। সপ্তাহে একবার করুন। এতে মেথির বীজও যুক্ত করতে পারেন।

হেয়ার টনিক হিসাবে সেরা কাজ করে:

কারি পাতা চুলের টনিকের জন্যও ভাল কাজ করে কারণ এটি মাথার ত্বককে ময়শ্চারাইজ এবং পুষ্ট রাখতে সহায়তা করে। এক মুঠো সতেজ কারি পাতা নিন এবং এতে ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল দিয়ে এটি প্যানে ফোটান। কিছুক্ষণের জন্য ফুটতে দিন এবং পরে মিশ্রণটি শীতল হয়ে গেলে এটি মাথায় লাগান। কারি পাতায় ভিটামিন বি-৬ থাকার কারণে, এই পাতাগুলি চুলের শিকড়কে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

চুলের ক্ষতিগ্রস্থ গোড়া মেরামত করে:

দূষণ এবং চুলে বিভিন্ন রাসায়নিক চিকিৎসার কারণে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং শুকিয়ে যায়। কিন্তু, কারি পাতায় থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলির কারণে এটি ক্ষতিগ্রস্থ গোড়া মেরামত করতে সহায়তা করে। কিছু কারি পাতা কুচি করে নিন এবং এটি আপনার পছন্দসই ক্যারিয়ার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ভালভাবে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ গোড়া মেরামত করতে সহায়তা করবে।

এটি আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন:

আপনার ডায়েটে গুঁড়ো বা কাঁচা কারি পাতা অন্তর্ভুক্ত করুন। কারি পাতা দিয়ে সিদ্ধ জল খাওয়া অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধার পাশাপাশি আপনার চুলকেও সুরক্ষিত করে। এটি পুদিনা পাতার সাথে কাঁচাও খাওয়া যেতে পারে।