চারশো বছর পর কাছাকাছি অবস্থানে বৃহস্পতি ও শনি

0
86

মহাকাশে ঘটনাবহুল মাস ডিসেম্বর। এ মাসেই মহাশূন্যে দেখা গেছে উল্কাপাত, তারপর সূর্যগ্রহণ। আর সোমবার বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। প্রায় চারশো বছর পর একেবারেই কাছাকাছি অবস্থানে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে গ্রেট কনজাংশন বা মহা সংযোগ।

গ্যালিলিওর টেলিস্কোপ আবিষ্কারের ১৩ বছর পর ১৬২৩ সালে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহকে কাছাকাছি দেখা গিয়েছিলো। সে ঘটনার আবারও সাক্ষী হলো বিশ্ব। এ বছর নাসা এই মহাজাগতিক ঘটনার নাম দেয় ক্রিসমাস স্টার।

শনি ও বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব ৭৬ কোটি কিলোমিটার। দুইটি গ্রহই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। এসময়ে একটি থাকে পূর্বে, আরেকটি পশ্চিমে। কিন্তু সোমবার ৩৯৭ বছর পর, গ্রহ দুইটি আসে এক জায়গায়।

এসময় তাদের দূরত্ব ছিলো দশমিক ১ ডিগ্রি। উজ্জ্বল বৃহস্পতি আর কিছুটা ম্লান দেখা যায় শনিগ্রহকে।

সৌরজগতের বৃহত্তর গ্রহ বৃহস্পতি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১২ বছর, আর শনি গ্রহ প্রায় সাড়ে ২৯ বছর। যদিও ২০ বছর পরপর এরকম সংযোগ হয়। কিন্তু তা কখনোই খালি চোখে দেখা যায়না। তাই এবারের ঘটনা অতিবিরল।

আবারো এমন ঘটনা ঘটবে ৬০ বছর পর, ২০৮০ সালের ১৫ মার্চ। বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রায় আটশ বছর আগে অর্থ্যাৎ ১২২৬ সালে ৪ মার্চ, এই দুই গ্রহ এসেছিলো এক সরল রেখায়।

সাধারণত শনি ও বৃহস্পতি দুটি গ্রহের মাধ্যকর্ষণ শক্তি খুব বেশি। সেই কারণে গ্রহাণু থেকে রক্ষা পায় পৃথিবী। এবার নিজেদের কাছাকাছি আসলেও, পৃথিবীর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ গবেষক অধ্যাপক ডেভিড ওয়েইনট্রাব জানিয়েছেন, এমন ঘটনা একজন মানুষ তার জীবনকালে একবারই দেখার সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন গ্রেট কনজাংশন বা মহাসম্মিলন কিংবা মহাযুগলবন্দি। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে ক্রিসমাস স্টার ২০২০ নাম দিয়েছে নাসা।

সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি সূর্যকে এক বার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ১২ বছর। আর শনি যেহেতু সূর্য থেকে অনেক বেশি দূরে থাকে, তাই তার কক্ষপথের পরিধি বৃহস্পতির কক্ষপথের পরিধির চেয়ে অনেক বেশি। আর তাই একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে শনির লাগে প্রায় সাড়ে ২৯ বছর।

২১ ডিসেম্বর আরো একটি বিশেষ কারণে মনে রাখার মতো। কারণ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত, ক্ষুদ্রতম দিন।

২১ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করায় এবং উত্তর মেরু সূর্য থেকে কিছুটা দূরে হেলে থাকায় উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত ও পরদিন ক্ষুদ্রতম দিন হয়ে থাকে।

তবে বিপরীত অবস্থা থাকবে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে। সেখানে একই সময় হবে দীর্ঘতম দিন ও হ্রাস্বতম রাত।

জলবিষুব সংঘটনের পর সূর্য নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর পৃথিবী যতই তার কক্ষপথে অগ্রসর হয়, ততই পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে যেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকতে থাকে। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমশ হ্রাস পায় এবং রাতের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।